বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সংসদের ভেতরে-বাইরে লড়াই চলবে: শফিকুর রহমান
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী কাঁচা বাজার পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে খুচরা বাজার ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি এই বাজার পরিদর্শন করেন।
বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, "মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং কৃষক—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না, আবার ভোক্তারাও চড়া দামে পণ্য কিনছে। মাঝখানের মুনাফা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। আমরা এই চক্রটি ভাঙতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, এই অশুভ চক্র ভাঙার লড়াই সংসদের ভেতরে ও বাইরে—সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। দেশ ও বাজার পরিস্থিতি ভালো করা একা কোনো দল বা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। বাজারের দখলদারিত্ব ও নীরব চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা আমাদের মাঝেই চলাফেরা করে এবং তাদের পরিচয় সবার জানা।
বিরোধীদলীয় নেতা দৃঢ়ভাবে বলেন, "সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি হবে না, তবে কারও সাহস নেই তা করার। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তবে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি।"
পরিদর্শনকালে একজন ব্যবসায়ী বাজারের একটি বড় অনিয়ম তুলে ধরে জানান, সরকার মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় দোকান বরাদ্দ দিলেও বরাদ্দপ্রাপ্তরা তৃতীয় পক্ষের কাছে তা ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় ভাড়া দিচ্ছে। যেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে মাত্র ১৩ টাকা, সেখানে এমন অস্বাভাবিক ভাড়া ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজার পরিদর্শনে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
Comments