ট্রাম্প-শি বৈঠক: বিশ্বমঞ্চে ট্র্রাম্পের দুর্বলতা কি উন্মোচিত?
চীনের নেতা শি জিনপিং-এর সঙ্গে এই সপ্তাহের শীর্ষ বৈঠককে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বরাজনীতিতে নিজের স্থায়ী প্রভাবের প্রদর্শনী হিসেবে তুলে ধরতে চান।
তবে চীনের জাঁকজমকপূর্ণ আতিথেয়তা ট্রাম্পকে একজন সম্মানিত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করলেও, এই সফর একই সঙ্গে দেখিয়ে দেবে যে তার কিছু সিদ্ধান্ত-বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত-কীভাবে তার কর্তৃত্ব ও আমেরিকার বৈশ্বিক প্রভাবকে দুর্বল করে তুলছে।
বিশ্বরাজনীতির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি, যা অনেকাংশে ট্রাম্পের নীতির ফল, এই বৈঠককে ১৯৭০-এর দশকে রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মার্কিন-চীন শীর্ষ সম্মেলনে পরিণত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কিন্তু ট্রাম্পকে স্থিতিশীলতার বিপরীত চরিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেই বৈশ্বিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত করেছেন।
ট্রাম্প মুক্তবাণিজ্য, জোটভিত্তিক কূটনীতি এবং ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মতো আমেরিকান প্রভাবের ঐতিহ্যগত ভিত্তিগুলোও শিথিল করেছেন। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একক শক্তি ও স্বাধীন পদক্ষেপের প্রতিফলন। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিতে, এটি এমন এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ যা চীনের উত্থানের মুখে আমেরিকার বৈশ্বিক সুবিধাগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইরানে স্পষ্ট বিজয় অর্জনে ব্যর্থতা এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, যা চীন কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারে। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আনার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় তার ব্যক্তিগত নেতৃত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সোমবার রাতে ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
এদিকে ট্রাম্পের চীন সফরের আগে ইরান থেকেও কটাক্ষ ছোড়া হয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি বলেছেন, "মিস্টার ট্রাম্প, কখনো ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেইজিংয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।"
Comments