তামিলনাড়ুতে বিজয়ের চমকের পরও সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েন
তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ৬২ বছরের প্রথাগত রাজনীতি ভেঙে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে অভিনেতা থালাপ্পাতি বিজয়ের 'তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম' (টিভিকে)। তবে নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজ্যপাল আরভি আরলেকারের সাথে রাজভবনে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন বিজয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এটি একটি বিশাল অর্জন, তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় 'ম্যাজিক ফিগার' ১১৮ থেকে তারা এখনো ১০টি আসন পিছিয়ে।
রাজভবনে বৈঠক চলাকালীন রাজ্যপাল বিজয়ের কাছে সরকার পরিচালনার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে বিজয় জানান, কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। এতে তার মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩। তবুও লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫টি আসন কম থাকা নিয়ে রাজ্যপালের প্রশ্নের মুখে বিজয় নিজেকে 'ফ্লোর টেস্ট' বা আস্থা ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেন।
বিজয়কে সরকার গঠন করতে হলে এখন বামপন্থী দল, ভিসিকে কিংবা পিএমকে'র মতো ছোট দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার আসন সংখ্যা ১২৩-এ পৌঁছাবে, যা হবে আরামদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
তবে এই সমীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদর্শিক মতপার্থক্য। বিজয় ইতিমধ্যে কংগ্রেসকে কথা দিয়েছেন যে তিনি কোনো 'সাম্প্রদায়িক শক্তি'র (বিজেপি ঘেষা দল) সাথে জোট করবেন না।
পিএমকে-র সাথে বিজেপির সখ্যতা এবং ভিসিকে-র সাথে ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের জোট বিজয়ের জন্য নতুন মিত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
থালাপ্পাতি বিজয় যদি প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যপাল আরভি আরলেকার নতুন নির্বাচিত বিধানসভা স্থগিত রেখে তামিলনাড়ুতে 'রাষ্ট্রপতি শাসন' জারির সুপারিশ করতে পারেন।
ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র আধিপত্য চুরমার করে দিয়ে বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান কেবল দক্ষিণ ভারত নয়, বরং পুরো ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রূপালী পর্দার এই নায়ক বাস্তবের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট পরতে পারেন কি না।
Comments