হরমুজ প্রণালিতে নতুন ‘আইনি নিয়ম’ চালুর ঘোষণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে 'নতুন অধ্যায়ের সূচনা' ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে এই জলপথে এখন থেকে ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নতুন আইনি নিয়ম কার্যকর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। খবর: প্রেস টিভি।
মোজতবা খামেনি পারস্য উপসাগরকে মুসলিম বিশ্বের জন্য এক 'অপরিবর্তনীয় নিয়ামত' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এই জলরাশি ও হরমুজ প্রণালি কেবল দেশগুলোর মধ্যে সংযোগই তৈরি করে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি অনন্য ধমনী হিসেবে কাজ করে। অতীতে এই সম্পদকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর লোভ অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।"
সর্বোচ্চ নেতা অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ও আমেরিকান শক্তিগুলো বারবার এই অঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়েছে। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলাকে তিনি সেই ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "বিদেশি আগ্রাসনের মুখে স্বদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে ৩ কোটির বেশি ইরানি প্রস্তুত রয়েছে।"
খামেনি আরও জানান, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিক তাদের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। তারা যেভাবে নিজেদের আকাশ ও স্থলসীমা রক্ষা করে, ঠিক সেভাবেই এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও রক্ষা করবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নিয়মের বিষয়ে খামেনি জোর দিয়ে বলেন, "শত্রুভাবাপন্ন শক্তির অপব্যবহার বন্ধ করতে এই জলপথটি এখন থেকে নতুন নিয়মে পরিচালিত হবে। নতুন এই আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা অঞ্চলের সকল জাতির জন্য স্বস্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে।"
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল ইরান তাদের উপকূলে ১৬২২ সালে উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে 'পারস্য উপসাগর দিবস' পালন করে। সেই উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই বড় ঘোষণাটি আসলো।
Comments