জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সতর্কতা জোরদার
জাপানের ইওয়াতে উপকূলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর পরপরই তিনটি অঞ্চলে ৩ মিটার (প্রায় ১০ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো ইওয়াতে, আওমোরি প্রিফেকচার এবং উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত খবরে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর উপস্থাপকরা বাসিন্দাদের ২০১১ সালের মার্চের বিপর্যয়ের কথা স্মরণে রেখে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। ওই বছর ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছিল জাপান। যা 'গ্রেট ইস্ট জাপান আর্থকোয়েক' নামে পরিচিত।
জাপান টাইমস লিখেছে, ২০১১ সালের ১১ মার্চের ওই ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ১ লাখের বেশি বাসিন্দা। সোমবারের ভূমিকম্পের পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-তে নিয়মিত 'সুনামি, নিরাপদ স্থানে সরে যান' লেখা বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আরও লেখা হয়েছে, 'পেছনে ফিরে তাকাবেন না।'
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। আওমোরি, ইওয়াতে এবং মিয়াগি প্রিফেকচারের কিছু অংশে জাপানি সিসমিক স্কেলে (৭ মাত্রার স্কেল) ভূমিকম্পের তীব্রতা ৫-এর কিছু কম রেকর্ড করা হয়।
রাজধানী টোকিও এবং এর আশেপাশে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৩, কিন্তু তারপরও ভবনগুলো কয়েক মিনিট ধরে দোলে। ভূমিকম্পের পরপরই ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি লক্ষ্য করা গেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে জেএমএ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ, বিশেষ করে দুই থেকে তিনদিন আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে।
Comments