গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন
গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতিতেও। বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর জমিতে বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের গ্রাহক রয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি। এসব গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সেবা দিতে চাহিদা রয়েছে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া ১ ঘন্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। যা সারা দিনে ১২ থেকে ১৫ বার লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে তীব্র গরমের সাথে ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতেও একই সমস্যা রয়েছে।
জানাগেছে, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প দিয়ে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি খাতে চরমভাবে ক্ষতিমুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক পেশায় যুক্ত তরুণরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে। রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
কৃষি খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র চালু রাখা যাচ্ছে না, আর জ্বালানি সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও সহজ হচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলায় হামের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু ও রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
জেলা শহরের বাসিন্দা নয়ন সাহা বলেন, আমার একটি মেয়ে অসুস্থ। দিনে অন্তত ১৫ বার বিদ্যুত যায়। এতে গরমে অনেকে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ী অমল সাহা বলেন, জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। ক্রেতাদের মালপত্র দেখাতে পারছি না। এতে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক সাধারণ 'হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই এসব রোগীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখতে হয়। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে আমাদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাঈন উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রাহক রয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি| এসব গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সেবা দিতে চাহিদা রয়েছে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের| কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট| চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া ১ ঘন্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
Comments