হরমুজ সংকটে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে তেলের দাম: যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সোমবার এক সম্মেলনে সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত 'সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি' সম্মেলনে ক্রিস রাইট তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন:
রাইট জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দাম ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে খুব দ্রুতই তেলের দাম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংঘাতের ফলে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং দাম বাড়বে—এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই জানতেন এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
যুদ্ধ শেষ হলেও বাজার সাথে সাথে স্বাভাবিক হবে না। তার মতে, "গ্রীষ্মের মধ্যেই তেলের দাম কমে যাবে—এমনটা ভাবা হবে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়া। সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। তেহরান অধিকাংশ বিদেশি জাহাজের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা সকল বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথটি রুদ্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
Comments