দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর কোনো মন্ত্রীর এটাই প্রথম ভারত সফর।
হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একান্তে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লিখেছেন: "বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।"
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই সফরের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়েই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক করছেন।
পৌঁছানোর দিনই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আজ সকালে ভারতের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
দিল্লি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন। ভারতের সাথে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের আগামী দিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Comments