প্রসঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: আসিফ নজরুল কি সত্য বলছেন?
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি যা যা বলেছেন তার আনেক কথা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। তবে আমরা আজ কথা বলব,১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ৭২ ঘন্টা আগে তড়িঘড়ি এবং অনেকটা চুপিসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা বানিজ্য চুক্তি নিয়ে।
বিবিসি বাংলাকে আসিফ নজরুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে তাকে কখনোই ডাকেননি তার সরকার প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস। তার মতে, এটি তার এলাকার বিষয় নয় বলেই তাকে ডাকা হয়নি।
এই কথার তীব্র সমালোচনা চলছে নেটিজেনদের মধ্যে।
তিনি খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে জোর দিয়ে বলছিলেন,এটার বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না,এটা নিয়ে নাকি কখনো তার সাথে আলাপই করা হয়নি।
বাংলাদেশ সরকার যখন কোন দেশের সাথে কোন চুক্তি করে তখন তার কিছু আইনকানুন মেনে চলতে হয়। তো এটা হওয়ার কথা নয় যে, খোদ আইন উপদেষ্টা, তথা আইন মন্ত্রীই এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। নিয়ম আনুযায়ী এই চুক্তি আইন মন্ত্রণালয়ে, অর্থাৎ আসিফ নজরুলের কাছেই যাওয়ার কথা। সেখান থেকে ভেটিং বা সম্মতির পরই মন্ত্রী পরিষদে গেছে আনুমোদনের জন্য। অন্তবর্তী সরকারের সময় এটি ছিল উপদেষ্টা পরিষদ।
খসড়া চুক্তি কেবিনেটে আলোচনা হবে,কেবিনেট অনুমোদন না দিলে চুক্তি সাক্ষর হবে না – এটা হলো মোদ্দা কথা। আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে খসড়া যায় কেবিনেট বা উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপনের আগে। চুক্তিতে যেসব বিষয় থাকবে সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেওয়া হয়। কেবিনেটে উপস্থাপনের আগে সংক্ষিপ্তসার সহ মন্ত্রীদের সবার কাছে পাঠানো হয়। এগুলি নিয়ম,মানতেই হয়।
তাহলে আসিফ নজরুল কি করে বললেন তিনি কিছু জানতেন না? আইন উপদেষ্টা হিসেবে এই চুক্তি তারই দেখে দেওয়ার কথা। সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদে এই চুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। ফরিদা এটাও বলেছেন যে তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি এর বিরোধিতা করেছেন এবং অন্য উপদেষ্টারা সবাই এইজন্যে নাকি তাকে কিঞ্চিৎ নিন্দামন্দও করেছেন। ফরিদা আক্তারের কথা অবিশ্বাস করা যুক্তিসঙ্গত হবে না,কেননা সেটাই হওয়ার কথা।
আর এ কারণেই আসিফ নজরুলের কথা সত্যি বলে মনে করছেন না অনেকে। আইন উপদেষ্টা তথা আইন মন্ত্রী হিসেবে আসিফ নজরুল এই বিষয়টি জানেন না- এটা বিশ্বাস করা কঠিন। ফলে প্রশ্ন ওঠে- তিনি কি দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন? তার 'সম্পৃক্ততা নেই' দাবি বরং নতুন সন্দেহের জন্ম দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই এখন স্পষ্ট করে বলতে হবে - আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়া কীভাবে বিদেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
আর যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে যে আইন মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনে চুক্তিটি হয়েছে- তাহলে তা গুরুতর রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের শামিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনূসের পুরো উপদেষ্টা পরিষদকেই জবাবদিহি করতে হবে। নাকি সময় বুঝে সব দোষ অধ্যাপক ইউনুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে এই চুক্তির সমালোচনা থেকে দূরে রাখতে চাচ্ছেন?
Comments