ইরান দাবি: ১৬০টিরও বেশি মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন ধ্বংস
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশকারী ১৬০টিরও বেশি ড্রোনের পাশাপাশি উন্নত যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। শনিবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি ওই দাবি করেছেন।
ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো পরিদর্শনের সময় তিনি বলেছেন, ইরানি ইউনিটগুলো সফলভাবে শত্রুদের কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেছেন, শত্রুরা কোনও আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর আগেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; যা হামলাকারীদের ''কাল্পনিক প্রচারণা'' ভেঙে দিয়েছে।
ইরানি এই ব্রিগেডিয়ার বলেছেন, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোনের জন্য ওত পেতে আছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি ইউনিট শত্রুপক্ষের একাধিক চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু ও ভূপাতিত করা ছিল মূলত কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক সরঞ্জামের উদ্ভাবনী ব্যবহার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৈপুণ্যের ফল; যা শত্রু বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সব আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনও মূল্যে ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজার এবং বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
Comments