মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নভোচারীদের
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করেছেন। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে বড় ধরনের 'ইঞ্জিন ফায়ারিং'-এর মাধ্যমে তারা এখন দ্রুতবেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মহাকাশযান থেকে এক পলকে পুরো পৃথিবী দেখার সেই অবিশ্বাস্য ও স্তব্ধ করে দেওয়া অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা।
পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগের ছয় মিনিটের প্রক্রিয়া শেষে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক ও জেরেমি হ্যানসেন।
কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান বলেন, "এখান থেকে এক পলকে এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত পুরো গোলকটি দেখা যায়। আফ্রিকা, ইউরোপ ছাড়িয়ে একটু মনোযোগ দিলে উত্তর মেরুর আলোকছটাও (অরোরা) চোখে পড়ে। এটি আমাদের চারজনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।"
নভোচারীরা জানান, মহাকাশযানের ভেতরটা কিছুটা শীতল হলেও তা বেশ আরামদায়ক। সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজে তাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখে একে অপরের দিকে ভাসমান মাইক্রোফোন ছুড়ে দিতে দেখা যায়।
যাত্রার প্রথম কয়েক ঘণ্টা নভোচারীরা যানের সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে টয়লেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দিলে তারা নিজেরাই তা সমাধান করেন। এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টিনা কোক হাসিমুখে বলেন, "নিজেকে 'স্পেস প্লাম্বার' হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আমি গর্বিত। টয়লেটটি এখন ঠিকঠাক কাজ করছে।"
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশযানটি এখন এমন একটি পথে আছে যা চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি ব্যবহার করেই বাড়তি জ্বালানি ছাড়া যানটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানান, কক্ষপথীয় বলবিদ্যার নিয়মেই তারা চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন। নভোচারীদের পরা বিশেষ স্যুটগুলো জরুরি অবস্থায় ছয় দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা ও সঠিক বায়ুচাপ বজায় রাখতে সক্ষম।
আর্টেমিস-২ মিশনটি সফল হলে তা ভবিষ্যতে মানুষের আবারও চাঁদে অবতরণের পথ প্রশস্ত করবে। বর্তমানে নভোচারীরা সুস্থ আছেন এবং তাদের যাত্রা নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
Comments