পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
বিদেশে পাচার হওয়া দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনাকে বর্তমান সরকারের দুর্নীতি দমন কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। যার বার্ষিক গড় পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা ১.৮ লাখ কোটি টাকা।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি
পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আইনি ও তথ্যগত যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান: প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে। বাকি ৭টি দেশের সঙ্গে 'পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি' স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত করা এবং তা ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান অংশ।
Comments