উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট।
তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থল আক্রমণের সতর্কবার্তা দেওয়ার পর থেকেই বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়। যদিও গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তবে গতকাল ইরানের সংসদের স্পিকারের পাল্টা হুঁশিয়ারি—"বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছে"—পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়ায় তেল পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, যা এখন প্রায় বন্ধের মুখে। লোহিত সাগর এর বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব থাকায় এই নৌপথটিও এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
র্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি সতর্ক করেছেন যে, তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ হরমুজ প্রণালির তেলের প্রধান গন্তব্য এশিয়া। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। গতকাল জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ৪.৫ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে ৪ শতাংশ।
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, গত রবিবারের বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পারেন।
Comments