যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অভিবাসন নীতি, ইরানে সম্ভাব্য যুদ্ধ এবং স্বৈরাচারী শাসনের আশঙ্কায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) 'নো কিংস' শিরোনামে আয়োজিত এই বিক্ষোভে দেশটির সবকয়টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ২০০-এর বেশি স্থানে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। আয়োজকদের দাবি, আগের দুটি বিক্ষোভের তুলনায় এবার জনসমাগম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবারের এই কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় মিছিলগুলো অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক, টেক্সাসের ডালাস, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই-তৃতীয়াংশ বিক্ষোভই হয়েছে বড় শহরের বাইরে ছোট ছোট মফস্বলগুলোতে। গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত প্রথম বিক্ষোভের তুলনায় ছোট শহরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিনেসোটার সেন্ট পলে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, "আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা অলিগার্কদের হাতে ছেড়ে দেব না। এ দেশে জনগণের শাসন থাকবে।" মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা মানবিকতা ও গণতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।"
অন্যদিকে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে প্রায় এক লাখ মানুষের মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। তিনি বলেন, "ট্রাম্পের আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা অস্তিত্বের সংকটে ফেলেননি।"
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে:
যেমন-ডালাসে ট্রাম্পপন্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফেডারেল কারাগারের সামনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফেডারেল ভবনের সামনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলার অভিযোগে দুজন 'দাঙ্গাকারী'কে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে বিভাগটি।
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে প্রধানত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে: ১. আগ্রাসী অভিবাসন নীতি: মিনিয়াপলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির বিচার দাবি। ২. যুদ্ধবিরোধী অবস্থান: ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় প্রতিবাদ। ৩. গণতন্ত্র রক্ষা: 'রাজতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র চাই' এবং 'স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ' স্লোগানে মুখরিত ছিল ন্যাশনাল মল। ৫৪ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী হলি বেমিস বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা রাজাদের শাসনের বিরুদ্ধে লড়ে আমেরিকার স্বাধীনতা এনেছিলেন। আজ আমরা আবারও সেই একই কাজ করছি।"
Comments