বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উৎসের সন্ধান
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস খুঁজতে জোর দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কাজাখস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো নতুন দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে কাজাখস্তান ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে সরাসরি - জি টু জি - ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং এলপিজি আমদানি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজাখস্তান মধ্য এশিয়ার একটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক স্থিতিশীল। তাই বাংলাদেশ যদি তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে পারে, তাহলে এটি একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে নাইজেরিয়া আফ্রিকার অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ, যেখান থেকেও জ্বালানি আমদানির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে দুইটি আলাদা কোম্পানি থেকে ১ লাখ টন ও ২ লাখ টন করে ডিজেল আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা বেশি। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, এক বা দুইটি অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সরকার এখন জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি কাজাখস্তান ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে আলোচনা সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। এতে করে হঠাৎ করে কোনো অঞ্চলে সংকট তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
Comments