‘লুকাস’ ড্রোন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ
ইরানের জনপ্রিয় 'শাহেদ-১৩৬' ড্রোনের আদলে তৈরি 'লুকাস' ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নাশকতামূলক হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান। রোববার (১৫ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং রাজনৈতিক জোটে পরাজিত হয়ে শত্রু এখন 'ছলচাতুরীর' আশ্রয় নিয়েছে।
জোলফাকারি অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ ইরানের সমরাস্ত্রের আদলে ড্রোন তৈরি করে বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর মনে অবিশ্বাস তৈরি করা এবং আঞ্চলিক ঐক্য বিনষ্ট করা। তিনি বলেন, 'শত্রু চায় আমাদের বৈধ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে।'
ইরানের প্রতিরক্ষা ডক্ট্রিন সম্পূর্ণ আইনগত ও যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, 'ইরান কেবল আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাতেই পাল্টা হামলা চালায়। আমরা যেখানেই হামলা করি না কেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করি এবং তার দায়ভার গ্রহণ করি।'
তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোতে সাম্প্রতিক কিছু 'রহস্যজনক' হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'এসব হামলা ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের অতর্কিত সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই 'লুকাস' ড্রোনের মাধ্যমে নতুন এই প্রোপাগান্ডা যুদ্ধের অবতারণা হয়েছে বলে মনে করছে তেহরান।
বিবৃতিতে জোলফাকারি প্রতিবেশী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'শয়তানি চক্রান্তে পা না দিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বহিরাগত শত্রুর এই ষড়যন্ত্র অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা সম্ভব হবে।'
Comments