সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন: পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের সভা আহ্বান করার সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে,কিন্তু সভা আদৌ হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।
১. বিরোধী দলগুলোর অবস্থান
বিরোধী জোটের প্রধান দাবি হলো-অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ দ্রুত গঠন করতে হবে।
- জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।
- তারা বলছে,গণভোটে প্রায় ৬৯% ভোটে অনুমোদন পাওয়া আদেশ বাস্তবায়ন না করলে রাজপথে আন্দোলন করা হবে।
- বিরোধী এমপিদের ৭৮ জন ইতিমধ্যে পরিষদের শপথ নিয়েছেন এবং তাদের দাবি, কোরামের বেশি সদস্য থাকায় পরিষদ কার্যত গঠিত হয়ে গেছে।
২. সরকারের অবস্থান
সরকারের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে।
- বিএনপি বলছে,বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
- দলটির মতে, সংসদে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা সংসদ থেকেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে।
- দলীয় সূত্রের দাবি, ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে তারা সম্ভবত সংস্কার পরিষদের পথ এড়িয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেবে।
৩. বিরোধের মূল কারণ
বিরোধের কেন্দ্র তিনটি বিষয়:
(ক) গণভোট বনাম সংসদীয় ক্ষমতা
- বিরোধীরা বলছে,গণভোটের ম্যান্ডেট সংসদের চেয়ে বড়।
- সরকার মনে করছে,সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
(খ) সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ
জুলাই সনদে মোট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি প্রস্তাবের কয়েকটিতে বিএনপির ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে,যেমন:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার
- ন্যায়পাল
- দুর্নীতি দমন কমিশন কাঠামো
- মহাহিসাব নিরীক্ষক ব্যবস্থা
(গ) আইনি অনিশ্চয়তা
সংবিধান সংস্কার আদেশের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছে। ফলে বিষয়টি আংশিকভাবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করছে।
৪. সামনে কী হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কয়েকটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে:
১. সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হতে পারে।
২. সরকার সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে।
৩.বিরোধী জোট রাজপথে আন্দোলন শুরু করতে পারে (সম্ভবত ঈদের পর)।
৪.আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে নতুন সাংবিধানিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
মূল রাজনৈতিক বাস্তবতা:
সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকার চাইলে এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারে,কিন্তু গণভোটে পাওয়া ম্যান্ডেটকে সামনে রেখে বিরোধীরা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চেষ্টা করবে।
Comments