খামেনির সবশেষ অবস্থান কীভাবে শনাক্ত হলো?
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইসরাইলকে খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। সেই খবরের ভিত্তিতেই যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে তেহরানের একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের তথ্য পায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বৈঠকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও উপস্থিত থাকবেন এমন তথ্য পায় সংস্থাটি।
এরপরই হামলার সময় বদলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যা তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা মনে করে এ কৌশলেই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে দ্রুত সময়ে হত্যা করা সম্ভব হবে।
অভিযান শুরু হয় ইসরাইল সময় ভোর ৬টার দিকে। ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন শুরু করে একের পর এক যুদ্ধবিমান। বিমানগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেহরানের কমপ্লেক্সে আঘাত হানে।
এ সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা। পাশের আরেকটি ভবনেই ছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য মতে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান হয়েছিল। সিআইএ কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা এমনকি অভ্যাসেও নজরে রেখেছিল।
খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে খুবই নির্ভুল তথ্য দেয় সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্যের সঙ্গে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে ইসরাইল।
এ হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গেল বছরের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
Comments