প্রথম আলোয় হামলা, ব্যর্থতার দায় অন্তর্বর্তী সরকারের : ফাওজুল কবীর
শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা-আগুনের ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার 'ব্যর্থ' বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে ফাওজুল কবীর খান বলেন, 'অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদ পত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোন যদি, বা কিন্তু নাই।'
ফাওজুল কবীর খান বলেন, 'গত বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর দগ্ধ ভবনে শিল্প প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম। অগ্নিদগ্ধ হতে সংবাদ পত্রটিকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় আমাদের। এখানে কোন যদি, বা কিন্তু নাই।'
'প্রথম আলো আক্রান্ত হয়েছে এটা দুঃখজনক হলেও এ ধরণের ঘটনা বিরল নয়। স্মর্তব্য, উগ্রপন্থীদের হাতে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু সংবাদপত্রটি রক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যর্থতা অমার্জনীয়।'
'আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপ করে এ থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে না।'
'আমাদের সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর চিন্তা হলো, "কেবল আমিই ঠিক এবং অন্যরা আমাদের প্রতিপক্ষ"। এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শুরু করতে হবে সংলাপ সব বিরুদ্ধবাদীদের সাথে। তাদের অভিযোগ শুনতে ও বুঝতে হবে। অভিযোগ আছে, আমাদের দেশে "ইসলামপন্থীদের/উগ্রবাদীদের" উপর অমার্জনীয় নৃশংসতা চালানো হয়েছে। অভিযোগ আছে এ দেশের প্রগতিশীলরা এর সম্মতি উৎপাদন করেছে। সাংবাদিক শফিক রহমান তো বলেই ফেলেছেন, সেদিন সংগ্রাম ও নয়া দিগন্ত আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদ হলে হয়তো প্রথম আলো আক্রান্ত হতো না।
মতভিন্নতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও সংলাপ চলতে থাকার আহ্বান জানিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, 'আবারও প্রথম আলোয় উগ্রবাদীদের অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানাচ্ছি ও এটা প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করছি।'
অন্তর্বর্তী সরকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন ফাওজুল কবির খান।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর গত ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে একদল হামলাকারী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা শাটার ও কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
একই সময়ে দ্য ডেইলি স্টার ভবনেও হামলা হয়। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট এবং পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
Comments