সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ থেকে রোজা শুরু
সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জসহ জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে রোজা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী।
মঙ্গলবার রাতেই এসব গ্রামের মসজিদগুলোতে শুরু হয়েছ পবিত্র তারাবির নামাজ। মতলব উত্তর উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরিফেও তারাবির নামাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান গদীনশীন পীর ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান।হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন,আমরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখার খবরের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সৌদি আরবের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সাদ্রা দরবার শরিফে তারাবি ও রোজা রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন করছেন।হাজীগঞ্জ: সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর ও বাসারা।ফরিদগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, সোনাচোঁ, উভারামপুর, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর ও শোল্লাসহ ২০টি গ্রাম।মতলব: দেওয়ানকান্দি, বাহেরচর পাঁচআনী, সাতানী, লতরদী, মাথাভাঙ্গাসহ ১৮টি গ্রাম।অন্যান্য কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রাম।
চাঁদপুরের এসব গ্রামে আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রথা শুরু হয় ১৯৩২ সালে। সাদ্রা দরবার শরিফের তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) প্রথম এই নিয়ম প্রবর্তন করেন। সেই থেকে তাঁর অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চাঁদ দেখার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে আসছেন।
Comments