যেকোনও মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে রাখতে হবে: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, 'দেশ গণতন্ত্রের দিকে নাকি অন্য দিকে যাবে– ১২ তারিখে দেশের মানুষকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্র ধরে না রাখতে পারলে মেগা প্রকল্প, জনগণের প্রকল্প হবে না। যেকোনও মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের জন্য কী কী করবেন জনসভায় সে বিষয়ে বলেন তারেক রহমান। ফারাক্কা ব্যারাজের বিপরীতে পদ্মা ব্যারাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, 'পদ্মা ব্যারাজ হলে সবাই সুবিধা ভোগ করবে। সেই সঙ্গে রাজশাহীর আমের জন্য হিমাগার এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।
'জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও বড় হয়েছিল, কিন্তু বরেন্দ্র প্রকল্প আজ বন্ধ। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প চালু করতে চাই, খাল খনন করতে চাই, পদ্মা নদী খনন করতে চাই।'
নির্বাচনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, 'বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, ঝগড়া-ফ্যাসাদে যেতে চায় না। সেজন্য আমি কারও সমালোচনাও করছি না। আমি যদি কারও সমালোচনা করি, তবে কারও লাভ হবে? পেট ভরবে?'
কোথাও কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। সঠিক তদন্ত করে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, 'আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে সেজন্য সবাই সতর্ক থাকুন, সজাগ থাকুন। বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েবি নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি, আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছে, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়।'
এজন্য পুরো উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন।
বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারেক রহমানকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউস হয়ে মাদ্রাসা ময়দানের সামনে দিয়ে শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে যান। এ সময় হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান তিনি। তখন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়েছেন লাখো নেতাকর্মী। নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, সিএনবি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পতাকা। ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকরা।
আশপাশের উপজেলার কর্মী-সমর্থকরা আসছেন বাস বা ট্রাকে চেপে। সমাবেশে রাজশাহী ছাড়াও নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরাও এসেছেন।
Comments