সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যুতে আসকের নিন্দা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আসক এই ঘটনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং সংবিধান, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ওপর সরাসরি আঘাত।
বলা হয়, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিহতের স্ত্রী জেসমিন নাহার ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন ১২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি ফার্মেসি থেকে ডাবলুকে আটক করে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও বলা হয়, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেনের তথ্যমতে, ১২ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৬ মিনিটে ডাবলুকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় আনা হয়।
বিবৃতিতে আসক জানায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। পাশাপাশি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ স্পষ্টভাবে নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করেছে এবং হেফাজতে নির্যাতন বা মৃত্যুর মত ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রেখেছে।
বলা হয়, এছাড়াও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন (সিএটি), এর রাষ্ট্রপক্ষ ; যেখানে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে আসক জোর দিয়ে বলতে চায়, আইন প্রয়োগকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।
আসক জানায়, তারা মনে করে এই ঘটনার স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।
পাশাপাশি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি অবিলম্বে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় তারা।
Comments