আরাকান আর্মির গুলিতে বাংলাদেশে এক শিশু নিহত
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে সীমান্ত এলাকার বসতবাড়ি কেঁপে ওঠছে এবং মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত টানা তিনদিন হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলছেই। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আক্রান্ত এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গাদের মতে, রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত চলছে।
এই সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ছে। গোলাগুলি ও বোমার শব্দের কারণে বাসিন্দারা আতঙ্কিত। অনেক জেলে পরিবার নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছে না। মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
রাকিব হাসান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা এখনও মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছি। রাখাইন সীমান্তে যেকোনো সময় গোলাগুলি হচ্ছে এবং সেখানে থেকে গুলি এসে পড়ছে। টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত আবারও বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এখন মাঝে মাঝে দু'একটি ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
Comments