খেলাপি ঋণের দায়ে বাতিল হচ্ছে ৮২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র
আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৮২ জন ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণতথ্য ব্যুরো (সিআইবি) থেকে যাচাই–বাছাই শেষে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনের বিপরীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ৩১ জন প্রার্থী আপাতত খেলাপি তালিকার বাইরে রয়েছেন। বাকি ২ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থী খেলাপিমুক্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঋণখেলাপির অভিযোগে জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতা ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঋণখেলাপের কারণে আরও যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম সরোয়ার, বাগেরহাট–২ আসনে এলডিপির প্রার্থী মো. হাসান ইমাম লিটু এবং ঢাকা–২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হক।
আরপিও অনুযায়ী, ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এতে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করবেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনে এই আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী অনেক প্রার্থীই আগে ঋণখেলাপি ছিলেন। তাদের কেউ কেউ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করে ঋণ নিয়মিত করেছেন। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া কিছু ঋণ নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় অনেক প্রার্থী শেষ পর্যন্ত খেলাপি তালিকায় থেকে গেছেন।
সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কোনো সদস্যের ঋণখেলাপি হওয়া বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে।
Comments