শুরুর ভয় কাটিয়ে ভারতের জয়
টসের পর আলোচনায় ছিল শুধু একটি বিষয়—যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের রান ২৫০ ছাড়িয়ে যাবে কি না। ডেল স্টেইনের ধারণা ছিল ৩০০ হয়ে যাবে। কিন্তু কীসের কী! ভারতকে শুরুতে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত।
ধুঁকতে থাকা দলকে সেখান থেকে টেনে তোলে সূর্যকুমার যাদব। তাঁর অধিনায়কোচিত ইনিংসে (৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪) শুরুর ধাক্কা সামলে ৯ উইকেটে ১৬১ রান তোলে স্বাগতিকেরা। এরপর মোহাম্মদ সিরাজ-অর্শদীপ সিংদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং যুক্তরাষ্ট্রকে বেঁধে ফেলে ১৩২ রানে। ২৯ রানে ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে শুভসূচনা করেছে ভারত।
ওয়াংখেড়ের মন্থর পিচে সূর্যকুমার ছাড়া দুই দল মিলিয়ে আর কেউ চল্লিশ ছুঁতে পারেননি। সাবধানী শুরুর পর ভারত অধিনায়ক বাড়িয়েছেন রানের গতি। দুটি করে ছক্কা ও চারে শেষ ওভারে ২১ রান নিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন মোমেন্টাম।
পরে পাওয়ার প্লেতে দারুণ বোলিংয়ে সিরাজ ও অর্শদীপ যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে দেন। সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি দলটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আভিশেক শার্মাকে হারায় ভারত। দারুণ ছন্দে থাকা বিস্ফোরক ওপেনার পান গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও ঠিক ছন্দে ছিলেন না ঈশান কিষান। যখন মনে হচ্ছিল নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন, তখনই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
তিনে নেমে ইতিবাচক শুরু করেন তিলাক বর্মা। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারেননি।শেডলি ফন শলকউইকের একই ওভারে কিষান ও তিলকের বিদায়ের পর গোল্ডেন ডাক মারেন শিভম দুবে। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি রিংকু সিং ও হার্দিক পান্ডিয়াও। এরপর সপ্তম উইকেটে সূর্যকুমার কিছুটা সঙ্গ পান অক্ষর প্যাটেলের।
২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সফলতম বোলার ফন শালকভিক। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি সৌরভ নেত্রবলকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন এটাই সবচেয়ে খরুচে বোলিং। অসুস্থতার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি বোলিংয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা যশপ্রীত বুমরা। তার জায়গায় একাদশে ফেরা সিরাজ টানা তিন ওভার বোলিং করে নেন ২ উইকেট, অর্শদীপ নেন ১টি।
পাওয়ার প্লেতে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারানো যুক্তরাষ্ট্র আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও ক্রমেই কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ মেলানোর মতো কিছু করতে পারেননি মিলিন্দ কুমার। ৩৪ রান করতে তিনি খেলেন ৩৪ বল।
সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তিও অনেকক্ষণ ক্রিজে ছিলেন। প্রত্যাশিত ঝড়ের আভাস ছিল না তার ব্যাটেও। এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ৩৭ রান করতে খেলেন ৩১ বল। শেষ দিকে ২২ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ব্যবধান কমান শুভম রঞ্জনে।
২৯ রানে ৩ উইকেট নেন সিরাজ। ২টি করে উইকেট নেন অর্শদীপ ও অক্ষর। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমারের হাতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ১৬১/৯ [সূর্যকুমার ৮৪*, তিলক ২৫, কিষান ২০, অক্ষর ১৪; শালকভিক ৪/২৫, হারমিত ২/২৬, আলী ১/১৩, মহসিন ১/১৬]
যুক্তরাষ্ট্র: ২০ ওভারে ১৩২/৮ [রঞ্জনে ৩৭, সঞ্জয় ৩৭, মিলিন্দ ৩৪; সিরাজ ৩/২৯, অর্শদীপ ২/১৮, অক্ষর ২/২৪, বরুণ ১/২৪]
ফল: ভারত ২৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সূর্যকুমার যাদব।
Comments