মোস্তাফিজ থেকে বিশ্বকাপ: ক্রিকেটে রাজনীতি ও টাকার ‘ডমিনো ইফেক্ট’
আইপিএলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেনার খবরটি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ছিল গর্বের। কিন্তু ভারতীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে ছেড়ে দিলে সেখান থেকেই জটিলতার শুরু। একটি ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির বড় ইস্যুতে পরিণত হয়।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে আপত্তি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত দলটি বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। ফলে একটি খেলোয়াড়কে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্তের রেশ গিয়ে পড়ে তিন দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর, যেখানে ক্রিকেটের চেয়ে রাজনীতিই বড় হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ দর্শক। বাংলাদেশ নিজেদের দলকে বিশ্বকাপে দেখতে পাচ্ছে না, আর বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত–পাকিস্তান লড়াইও অনিশ্চয়তায়। স্কটল্যান্ড সুযোগ পেলেও তাদের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এভাবে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াটা কাঙ্ক্ষিত নয়। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করছে টুর্নামেন্টের চিত্র।সংকটের আরেকটি বড় দিক অর্থনীতি। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে বিপুল আর্থিক স্বার্থ জড়িত, যা আইসিসির আয়ের বড় উৎস। ম্যাচ না হলে ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি এবং এর সদস্য দেশগুলো। ফলে ক্রিকেটের আলোচনা সরছে মাঠের লড়াই থেকে আর্থিক ক্ষতির হিসাবের দিকে।
আইসিসির সাবেক যোগাযোগ প্রধান সামি–উল–হাসান মনে করেন, বিষয়টি আরও কৌশলে সামলানো গেলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না। প্রকাশ্য ঘোষণা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক ধরনের 'ডমিনো ইফেক্ট' তৈরি করেছে, যার প্রভাবে ছোট একটি ঘটনা বড় আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিষ্কার, উপমহাদেশের ক্রিকেট এখন আর শুধু খেলার ভেতর সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনীতি ও অর্থনীতির জটিল সমীকরণ। ব্যাট–বল থাকলেও হারিয়ে যাচ্ছে সেই নির্মল ক্রিকেটীয় আবহ, আর হতাশ হচ্ছেন কেবল সেই দর্শকেরা, যারা শুধু খেলা দেখতে চেয়েছিলেন।
Comments