সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আইনজীবী মারজিয়া হিরা
রাজপথে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। আবার কখনো আদালতপাড়ায় দলীয় নেতা–কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে থেকেছেন সরব ভূমিকায়। সেই আইনজীবী মারজিয়া হিরা এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে চান। ছোটবেলা থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা আইনজীবী মারজিয়া হিরা এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন–১৫ (বরগুনা–ঝালকাঠী) থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন।
মারজিয়া হিরা বর্তমানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ নাট্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ও দৃঢ় ভূমিকা রেখে তিনি সংগঠনের একজন পরিচিত মুখে পরিণত হন। আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার পরও তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা থেমে থাকেনি। বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে ঢাকায় একাধিক হয়রানিমূলক মামলা ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কৃতিসন্তান মারজিয়া হিরা আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে প্রথম সারির একজন নারী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। মারজিয়া হিরা ছোটবেলা থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর দাদা বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের একজন সফল চেয়ারম্যান ও জাতীয়বাদী আদর্শের রাজনীতিতর একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তাঁর বাবা পাঘরঘাটা পৌর বিএনপির নেতা হিসেবে প্রয়াত হয়েছেন। ফলে শিক্ষা জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গ জড়িয়ে পড়েন মারজিয়া হিরা।
তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় যুক্ত রয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনের কাজে নিয়মিত সম্পৃক্ততার কারণে বরগুনাবাসীর কাছে তিনি একটি পরিচিত ও আস্থাভাজন নাম হয়ে উঠেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মারজিয়া হিরা বরগুনা-২ আসনের নির্বাচনী কাজে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছান। দলীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মানুষের বাস্তব সমস্যা, অভাব-অভিযোগ এবং প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এই সরাসরি যোগাযোগ ও আন্তরিক সম্পৃক্ততা স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ওমর ফারুক ফারকীর নেতৃত্বে গঠিত আইনজীবী টিমের সদস্য ছিলেন মারজিয়া হিরা। এই টিম বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসহ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অসংখ্য মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে। টিমের সদস্য হিসেবে মারজিয়া হিরা এসব মামলার আইনগত প্রস্তুতি, নথি পর্যালোচনা, কেস ম্যানেজমেন্ট এবং আদালতের কার্যক্রম সমন্বয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্রজীবনে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে আইন অঙ্গনে দলীয় নেতা–কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দল ও স্থানীয় মানুষের কাছে আস্থার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বরগুনার সাধারণ মানুষের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে শুধু পদ-পদবি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা ও সক্ষমতা। স্থানীয়রা বলেন, অবহেলিত জনগোষ্ঠী, অসহায় নারী এবং তরুণ সমাজের পাশে দাঁড়ানোই মারজিয়া হিরার রাজনীতির মূল দর্শন। এই কারণেই তাঁকে তারা একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবে দেখেন। বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য দক্ষ, সৎ এবং তারুণ্যনির্ভর প্রতিনিধির বড় প্রয়োজন। তাঁদের মতে, মারজিয়া হিরার রাজনৈতিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব সংযোগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হলে শুধু সাধারণ মানুষের কল্যাণই নিশ্চিত হবে না, দলগতভাবেও বিএনপির ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও ইতিবাচক হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে বরগুনার অবহেলিত জনগোষ্ঠী আরও সচেতন ও সংগঠিত হবে। সমাজে নতুন আশার সঞ্চার ঘটবে এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা বরগুনার রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে মারজিয়া হিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথ ও আইন অঙ্গনে জনগণের অধিকার রক্ষার যে সংগ্রাম করে আসছি, সেই অভিজ্ঞতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়েই জাতীয় সংসদে যেতে চাই। বরগুনা ও দেশের মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা রাখতে চান। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকে শক্তি হিসেবে নিয়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বরগুনার মানুষের ন্যায্য দাবি, উন্নয়ন এবং সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা এবং তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করাই হবে আমার লক্ষ্য।
Comments