আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস আজ, ১৩ সেপ্টেম্বর কেন উদযাপিত হয়?
ছোট থেকে বড় চকলেট বরাবরই সকলের প্রিয় খাবারের মধ্যে একটি। বিশেষ করে কোনো আনন্দ মূহুর্ত উদযাপন, ছোট বাচ্চাদের আদর করে উপহার দেওয়া কিংবা প্রিয় মানুষকে ভালোবাসার কথা জানাতে চকলেট সকলের পছন্দের তালিকায় থাকে।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন চকলেটপ্রেমীরা। ছোট্ট একটি চকলেট বার থেকে শুরু করে কেক, পেস্ট্রি কিংবা নানা ধরনের ডেজার্ট—পছন্দের চকলেটের স্বাদ নেওয়াই এ দিনের অন্যতম আনন্দ।
কেন ১৩ সেপ্টেম্বর চকলেট দিবস?
বছরের বিভিন্ন সময়ে চকলেটকে কেন্দ্র করে একাধিক দিবস পালিত হয়। তবে ১৩ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত রয়েছে মার্কিন চকলেট উদ্যোক্তা মিল্টন হার্শির নাম। ১৮৫৭ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
চকলেটকে শুধু ধনী ও অভিজাতদের বিলাসী খাবার হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্শির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তার অবদান এবং বিশ্বজুড়ে চকলেটের জনপ্রিয়তার কারণে ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তেতো পানীয় থেকে মিষ্টি চকলেট
চকলেটের ইতিহাস বহু হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীন মেসোআমেরিকার মায়া ও আজটেক সভ্যতায় কোকো বীজ ব্যবহার করে এক ধরনের পানীয় তৈরি করা হতো। বর্তমানের মিষ্টি চকলেটের মতো ছিল না সেই পানীয়; বরং সেটি ছিল তেতো এবং অনেক সময় বিভিন্ন মসলা মেশানো থাকত।
ষোড়শ শতাব্দীতে স্প্যানিশদের মাধ্যমে কোকো ইউরোপে পৌঁছালে এর সঙ্গে চিনি ও দুধ যোগ করার প্রচলন শুরু হয়। ধীরে ধীরে কোকোর তৈরি পানীয় ও চকলেট ইউরোপের অভিজাতদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে শিল্পায়নের ফলে চকলেট উৎপাদন সহজ ও ব্যাপক হয়। ১৮৪৭ সালে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান জে. এস. ফ্রাই অ্যান্ড সন্স শক্ত চকলেট বার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর আধুনিক চকলেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ডার্ক চকলেটের সম্ভাব্য উপকার
অতিরিক্ত চকলেট খেলে দাঁতের সমস্যা ও বেশি ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি রয়েছে। তবে বেশি কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ কিছু উপকারী উপাদান থাকে। পরিমিত পরিমাণে এটি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য কিছু সম্ভাব্য উপকার পাওয়া যেতে পারে।
চকলেট খাওয়ার পর মস্তিষ্কে আনন্দ ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। এতে অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া কোকোতে থাকা কিছু উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য উপকারের কারণে অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া উচিত নয়।
যেভাবে উদযাপন করবেন
আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস উদযাপনের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। নিজের পছন্দের ডার্ক, মিল্ক কিংবা হোয়াইট চকলেট দিয়ে দিনটি উদযাপন করা যায়।
প্রিয়জন ও বন্ধুদের চকলেট উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চকলেট কেক, পেস্ট্রি কিংবা হট চকোলেট তৈরি করেও দিনটি উপভোগ করা যেতে পারে।
চকলেটের স্বাদ ও দীর্ঘ ইতিহাসকে স্মরণ করে দিনটিতে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের চকলেট উপভোগ করাই হতে পারে সহজ ও আনন্দময় উদযাপন।
Comments