যে কারণে গরমে বয়স্কদের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন
গরম একটু বেশি হলে আমাদের সবারই কমবেশি অস্বস্তি হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গরমই হয়ে উঠতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বয়স্ক মানুষেরা। আর এই ঝুঁকি বেশি হতে পারে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—বয়স্ক মানুষ গরমে তুলনামূলক বেশি কষ্ট পান কেন?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। ঘাম হওয়ার পরিমাণ কমতে পারে, হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। পাশাপাশি অনেক মানুষের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের বিষয়ও থাকে। ফলে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা শরীরে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই গরমের দিনে বয়স্কদের যত্নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।
প্রথমত, পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো চিকিৎসক যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল পান করতে বলে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, দুপুরের অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন ছাড়া দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ছায়ায় থাকার চেষ্টা করা উচিত।
তৃতীয়ত, ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। ফ্যান, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ না থাকলে বা ঘর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ঠান্ডা পরিবেশে কিছু সময় থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি।
আর একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—পরিবারের বয়স্ক সদস্যকে একা রেখে ভুলে যাবেন না। অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি, অস্বাভাবিক আচরণ বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
গরমের সময় তাই শুধু নিজের নয়, পরিবারের বয়স্ক সদস্যটির প্রতিও বাড়তি নজর দিন। কারণ, আপনার কাছে যে গরমটা শুধু অস্বস্তিকর; একজন প্রবীণের জন্য সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।
Comments