দিনে ৬ ঘণ্টার বেশি বসে থাকলেই বিপদ: সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা
অফিসের ডেস্কে একটানা কাজ, অবসরে সোফায় বা বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল কিংবা ল্যাপটপে সিনেমা দেখা—আধুনিক জীবনে এগুলো অত্যন্ত চেনা দৃশ্য। কিন্তু এই আরামদায়ক অভ্যাসই যে আপনার শরীরে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দিনে ৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় একটানা বসে থাকলে ঘাড়ব্যথার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়, যার ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি হচ্ছেন নারী ও অফিসকর্মীরা।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী 'বিএমসি পাবলিক হেলথ'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা অলস জীবনযাপন (সেডেন্টারি বিহেভিয়ার) ঘাড়ের ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষকদের মতে, দিনে মাত্র ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার অভ্যাস থেকেই এই ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এই সময় ৪ ঘণ্টা পার হলে ঝুঁকি বাড়ে এবং ৬ ঘণ্টা পার হলে সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে বেশি ঘাড়ব্যথায় ভোগেন। শিক্ষার্থীদের তুলনায় চাকরিজীবীদের এই সমস্যায় পড়ার হার বেশি। বিশেষ করে যাদের দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে কাটাতে হয়। মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ঘাড়ব্যথার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অদ্ভুতভাবে, টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
চীনের বেইজিংয়ের একদল গবেষক প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের ওপর করা ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত পৌছেছেন।
গবেষকরা জানান, দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করলে ঘাড়ের ওপর ওজনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে পেশি শক্ত হয়ে এই স্থায়ী ব্যথার সৃষ্টি হয়। অনেকেই বুঝতে পারেন না যে প্রতিদিনের এই সামান্য অবহেলা ভেতরে ভেতরে শরীরকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ঘাড়ব্যথাকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মক্ষমতা হ্রাস, অনিদ্রা এবং মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই শারীরিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর পর বসা থেকে উঠে দাঁড়ান এবং অন্তত ১-২ মিনিট একটু হাঁটাহাঁটি করুন। কাজের ফাঁকেই চেয়ারে বসে ঘাড় ও কাঁধ হালকা ঘুরিয়ে স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করে নিন। ফোন ব্যবহারের সময় সেটি ঝুঁকিয়ে না ধরে চোখের সমান উচ্চতায় আনার চেষ্টা করুন। মেরুদণ্ড ও ঘাড় সোজা রেখে বসার চেয়ার-টেবিল ঠিক করুন। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটুন বা হালকা শরীরচর্চা করুন।
ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘাড়ের ব্যথা থেকে মুক্ত রাখতে পারে। তবে ব্যথা যদি তীব্র ও স্থায়ী হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
Comments