ভ্রমণের জন্য সেরা ৫টি বন্ধুসুলভ দেশ
ভ্রমণের সার্থকতা শুধু চোখজুড়ানো প্রকৃতি বা স্থাপত্যে নয়, বরং লুকিয়ে থাকে স্থানীয় মানুষের ব্যবহার ও আতিথেয়তায়। কোনো অচেনা দেশে গিয়ে সেখানকার মানুষের হাসি বা অমায়িক আচরণ আপনার পুরো ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেই বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনকারী সংস্থা 'রেমিটলি' ২৬টি দেশের ৪ হাজার ৬০০ মানুষের ওপর এক জরিপ চালিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে 'ভদ্র' বা মার্জিত দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
জরিপ অনুযায়ী, যেসব দেশের মানুষের আচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে, তাদের শীর্ষ ৫টি দেশ নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন:
১. জাপান (সৌজন্যতার রোল মডেল)
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫.১৫ শতাংশ মানুষের ভোটে তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপান। জাপানিরা তাদের সামাজিক সম্প্রীতি ও শিষ্টাচারের জন্য বিশ্বখ্যাত। মাথা নত করে অভিবাদন জানানো, সম্মানসূচক ভাষার ব্যবহার এবং বিনম্র ব্যবহার দেশটির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পর্যটকদের জন্য জাপান কেবল প্রযুক্তির দেশ নয়, বরং এক অনন্য সামাজিক শৃঙ্খলার উদাহরণ।
২. কানাডা (ক্ষমা চাওয়ার দেশ)
১৩.৩৫ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে কানাডা। কানাডিয়ানদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের খ্যাতি পৃথিবীজুড়ে। মজার ব্যাপার হলো, তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো ভুলের জন্যও বারবার 'সরি' বলতে দ্বিধা করে না। নতুনদের সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা এবং চমৎকার সামাজিক পরিবেশ দেশটিকে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
৩. যুক্তরাজ্য (শিষ্টাচারের ঐতিহ্য)
ব্রিটিশদের জীবনযাত্রায় 'প্লিজ' (Please), 'থ্যাংক ইউ' (Thank You) এবং ঘন ঘন 'সরি' বলা একটি সাধারণ শিষ্টাচার। জরিপে ৬.২৩ শতাংশ মানুষ দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বিনয়ী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বা কিউয়িং (Queuing) সংস্কৃতি এবং তাদের অনন্য রসবোধ ব্রিটিশ সমাজকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
৪. চীন (ঐতিহ্যবাহী সম্মান)
তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের শিষ্টাচার মূলত প্রাচীন কনফুসীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বড়দের শ্রদ্ধা জানানো, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলা তাদের মূল বৈশিষ্ট্য। জরিপের ৩.০৭ শতাংশ মানুষের মতে, পারস্পরিক সম্পর্কে সৌজন্য প্রকাশে চীনারা দারুণ মার্জিত।
৫. জার্মানি (সময়নিষ্ঠা ও মর্যাদা)
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানি। জার্মানদের কাছে শিষ্টাচার মানে হলো সময়নিষ্ঠা, সরাসরি যোগাযোগ এবং অন্যের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানো। প্রথম পরিচয়ে তারা খানিকটা আনুষ্ঠানিক থাকলেও সম্পর্ক গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের প্রকাশ ঘটে।
আপনি যদি শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, বরং সুন্দর আচরণের মানুষের সান্নিধ্য পেতে চান, তবে আগামী ছুটির দিনগুলোতে এই ৫টি দেশের যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: রেমিটলি জরিপ ২০২৬।
Comments