যেভাবে ভাসানীর ‘ধানের শীষ’ বিএনপির হলো আর শেরেবাংলার ‘লাঙ্গল’ জাতীয় পার্টির
এবারের নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। আর তাই ব্যালট পেপারেও থাকছে না ঐতিহাসিকভাবে চেনা নৌকা প্রতীক।কিন্তু রাজনীতির মাঠ একেবারে ফাঁকা নয়। প্রবলভাবে উপস্থিত আছে-বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামির দাঁড়িপাল্লা, এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল।এই প্রতীকগুলো শুধু চিহ্ন নয়- এগুলোর পেছনে আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস।
চলুন জানা যাক বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ কীভাবে এলো
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহৃত হয় ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।এটাই ছিল দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ধানের শীষকে দলীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে।কিন্তু ধানের শীষের ইতিহাস আরও পুরোনো।পাকিস্তান আমলেই মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এই প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট থেকে বের হয়ে আসা ভাসানী ন্যাপও ধানের শীষকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়।
১৯৭৮ সালে, ভাসানী ন্যাপের একটি বড় অংশ মশিউর রহমান 'যাদু মিয়া'-এর নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেয়। সেই রাজনৈতিক সংযুক্তির ধারাবাহিকতায় ধানের শীষ হয়ে ওঠে বিএনপির স্থায়ী প্রতীক।
অপরদিকে লাঙ্গল এসেছে শেরেবাংলা থেকে ,লাঙ্গল প্রতীকের শিকড় আরও গভীরে, উপমহাদেশের রাজনীতিতে।
অবিভক্ত ভারতে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির প্রতীক ছিল লাঙ্গল।পরবর্তীতে আতাউর রহমান খানের জাতীয় লীগ পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নেয়।
সময় গড়ায়।সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের আমলে আতাউর রহমান খান হন প্রধানমন্ত্রী।সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকেই এরশাদ লাঙ্গল প্রতীকটি জাতীয় পার্টির জন্য গ্রহণ করেন।
Comments