পঞ্চগড়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, হানিট্রাপ চক্রের নারীসহ ২ সদস্য গ্রেপ্তার
পঞ্চগড়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর আটকে রেখে অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে 'হানিট্রাপ' চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামপুর এলাকার মোঃ আবু রায়হান হৃদয় (২৪) এবং পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার মোছাঃ সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল গেটের সামনে থেকে ওই ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ৪-৫ জনের একটি হানিট্রাপ চক্র। পরে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঘটনার সাথে জড়িত আবু রায়হান হৃদয় ও সুরাইয়া পারভীন স্বরনীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারের পর আসামিদের পঞ্চগড় চীফ জুডিসিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা বিজ্ঞ আদালতের নিকট ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যবসার কাজে গত ২৭ জুলাই রাত ৮ টার সময় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে ৩ জন অকস্মাৎ আমাকে অজ্ঞাত স্থানে ধরে নিয়ে বিবস্ত্র করে এক নারীর সাথে ভিডিও করে। পরে সেখান থেকে মিলগেট এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব্ল্যাকমিল করে জোরপূর্বক আমার কাছে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় এবং নগদ ও বিকাশ যোগে আরও দুই দফায় টাকা নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে আমি থানায় ওই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দুইজন আসামী কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করে। আদালতে তারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে এই ঘটনার দৃষ্টান্ত মুলক বিচার প্রত্যাশা করছি।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছ জানান, পুলিশ অপহরণের মামলা গুরুত্বের সাথে নিয়ে দ্রুততার সাথে হানিট্রাপ চক্রের দুইজন সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
Comments