৩৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি, মধ্যরাতে পদত্যাগের ঘোষণা
"কতটা প্রতিহিংসায় আমার মতো ৩৮/৩৯ বছরের রাজনীতি করা মানুষগুলো নিরুপায় হয়ে যায়, তা কেবল ত্যাগীরাই জানে। যে পদের কোনো গুরুত্ব নেই, সেই পদ দিয়ে কী হবে?"— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এভাবেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেওয়া তাঁর ওই পোস্ট স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মোংলায় 'বস সাইফুল' নামে পরিচিত এই সাবেক ছাত্রনেতার দল ছাড়ার ঘোষণার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
পদত্যাগের ঘোষণায় সাইফুল ইসলাম দলীয় রাজনীতির অভ্যন্তরে প্রতিহিংসার অভিযোগের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, "আজও ঢাকা ঘের থেকে ৫ মণ মাছ ধরেছে দখলদাররা। কোরবানির ঈদের দুই দিন আগে ধরেছিল ১০ মণ। আর মোট ১২ গোণে কত মাছ ধরেছে তারাই জানে, গোণ চলমান আছে।"
পোস্টে তিনি তাঁর অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ বাবা-মায়ের কথাও উল্লেখ করেন। একসময় তাঁর বাবা-মা কোটি টাকা ব্যয় করে তাঁকে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করেছিলেন বলেও জানান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জানা-অজানায় কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। তাদের দাবি, দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিকভাবে চাপে ছিলেন।
পদত্যাগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, "আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি। বুধবার কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।"
তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর ভাষ্য, এই মুহূর্তে তিনি নিজের ত্যাগ ও ভোগান্তির কথাই বলতে চান।
এদিকে ফেসবুক পোস্টের পর মোংলা এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নেতাকর্মী বিষয়টিকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও মূল্যায়নের অভাবের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।
Comments