মহিপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হামলা পাল্টা হামলার নেপথ্যে সুদের দু হাজার টাকা
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হামলা ও পাল্টা হামলা এবং বেসরকারি হাসপাতাল ভাংচুরের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যম ছিলো সয়লাব। তবে বেশিরভাগ গণমাধ্যমেই একতরফা তথ্য দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মহিপুরের নজীবপুর গ্রামের খালগোড়া নামক স্থান থেকে ঘটনার সূত্রপাত।
ওই গ্রামের দিনমজুর শাহাবআলী (৪৫) মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও তার বন্ধুদের থেকে সুদে ৪ হাজার টাকা আনে। আসল টাকা দিয়ে দেওয়ার পরে সুদের ২ হাজার টাকা পাওনা থাকে। পরে ঐ পাওনা সুদের ২ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায়।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে রবিউল জিহাদ, ফারুক, মেহেদী, রাব্বি, সলেমান, জিহাদসহ ৮-১০ জন ছাত্রদল নেতা ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধায় খালোগাড়া নামক স্থানে ঐ পাওনা দারের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার ছেলে আকরাম (১৮) কে বেধড়ক মারধর করে এবং তাদের বসত ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে। পরে আকরামে মা এসে এসবে বাধা দেওয়ায় তার উপরেও কামরুলের নেতৃত্ব হামলা চালানো হয়। এবং আকরামের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা হামলার খবরে পেয়ে আসলে স্থানীয়দের সাথে তাদের ধ্বস্তাধস্তি হয় একপর্যায়ে তারা স্থান ত্যাগ করে মহিপুর বাজারে চলে যায়।
একপর্যায়ে হামলার শিকার আকরাম তাদের বন্ধুদের সহয়তায় ঐ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অবস্থান জানতে পেয়ে ১ ঘন্টার ব্যবধানে মহিপুরের বেসরকারি ক্লিনিক কেয়ার মডেলে যায় মোবাইল উদ্ধারে উদ্দেশ্যে। একপর্যায়ে ক্লিনিকের ভিতরে উভয়পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলায় মোবাইল ছিনিয়ে আনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন আহত হয় এবং ঐ ক্লিনিকের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে একটি গ্রুপ প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নজীবপুর গ্রামের দিনমজুর শাহাবআলীর স্ত্রী আকলিমা বলেন, সুদের ২ হাজার টাকা পাওনা থাকায় মহিপুর থেকে ছাত্রদল নেতা শাওনের নেতৃত্বে ৮-১০ জন এসে তাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে তার ছেলে আকরাম কে বেধড়ক মারধর করে। এসময় এসবে বাধা দিতে গেলে তার উপরেও হামলা চালায় ঐসব যুবক ছেলেরা। তিনি এই হামলার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন বলেন, তারা পাওনা টাকা চাইতে গেছিলেন খালগোড়ায় ওখানে হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো ওখানে এলাকাবাসী তাদের উপরে হামলা চালিয়েছে ফলে তারা কেয়ার মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো পরবর্তীতে ২য় দফায় ওখানে গিয়েও আকরামের নেতৃত্বে সিয়ামসহ অন্যরা তাদের উপরে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
ছাত্রদল নেতা সিয়াম মাহামুদ বলেন, আকরামের মোবাইল ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে আমরা মোবাইল উদ্ধারে গেলে ছিনতাইকারীদের সাথে আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। যা একটি মহল রাজনৈতিক ভাবে ভিন্ন খাতে নিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এসময় তিনি আরো বলেন অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম শাওন একসময় ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। ৫ আগষ্টের পরে ছাত্রদলে যোগ দিয়ে পদ নিয়ে দলের ভিতরে বিশৃঙ্খলা করে আসছে।
মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মহব্বত খান বলেন, উভয়পক্ষের তরফ থেকে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে গতকাল ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হাসপাতাল ভাংচুরের শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের পদত্যাগ করা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মাহামুদ কে পদ থেকে বহিষ্কার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল।
Comments