গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, শিশুসহ আহত ৩
গোপালগঞ্জে ভোট চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই আনসার সদস্যহ আহত হয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার খবর শোনার সাথে গোপালগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম সহ মোবাইল টিমের সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
আহতরা হলেন, ব্যাটেলিয়ন আনসার সদস্য ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার বামনদি গ্রামের আঃ খালেক মোল্লঅর ছেলে মো, জামাল মোল্লা ও সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের সুনীল মজুমদারের ছেলে সুকান্ত মজুমদার (২৮) ও শহরের আরামবাগ এলাকার আশরাফ আলী খানের মেয়ে আমেনা খানম (১৩)। এর মধ্যে আমেনা খানমের বাম পায়ে এবং আনসার সদস্যদের চোখের উপরে হালকা জখম হয়।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে খালের ওপার থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় ভোটর কেন্দ্রে মধ্যে পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যসহ তিনজন আহত হন।
এসময় ভোট কেন্দ্রের ভিতরে থাকা ভোটর ও আশাপাশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সেনাবাহিনী এবং বিজিবির একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরামবাগ এলাকার ভোটার অবিনাশ সরকার বলেন, হঠাৎ কেন্দ্রের মধ্যে বিকট শব্দ ও ধোয়া সৃষ্টি হয়। মনে হলো দুর থেকে কেউ ককটেল জাতীয় কিছু একটা ছুড়ে মেরেছে। পরে দেখলাম একটি কিশোরীর মেয়ের বামপায়ে ও দুইজন আনসার সদস্যের চোখের উপরে কিছু একটা লেগে জখম হয়েছে। মুলত ভোটার যাতে কেন্দ্রে না আসে, ভীতি সৃষ্টি করতে এঘটনা ঘটানো হয়েছে।
রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন চলছিলো। সকাল সোয়া ৯টার দিকে একটি বিকট শব্দ হয়। রুম থেকে বের হয়ে দেখি কেন্দ্রের মেইন গেটে উপর একটি একটি কেকটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে কেন্দ্রের ভিতরে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য ও একটি কিশোরী মেয়ে সামান্য আহত হয়েছেন। তবে, ভোট গ্রহন স্বাভাবিক রয়েছে।
এরআগে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার নিলারমাঠ শহীদ মাহাবুব প্রাঃ বিদ্যালয়, শহরের বিনাপানি স্কুল, রঘুনাথপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দূর্গাপুর হাই স্কুল, মাঝিগাতী হাই স্কুল এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াদানা বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রসহ অন্তত ১০টি ভোট কেন্দ্রে ও এর আশেপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
এসব ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী পূর্বপাড়া এলাকা থেকে খালেদ মোল্লার ছেলে জিসান মোল্লাকে (২৪) আটক করে পুরিশে সোপর্দ করেছে। অন্যদিকে, এ রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত গোপালেগঞ্জে ৩৯৭টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন চলছে। তবে, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া, গত ৩০ জানুয়ারী গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় আনসার ব্যাটাডলিয়ান অফিস কম্পাউন্ডে, গত ২৮ জানুয়ারী গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাস ভবনে, ২৬ জানুয়ারী গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে এবং গত বছরের ১২ ডিসেম্বর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পর পর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোন কুল কিনারা পায়নি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
Comments