নেছারাবাদে জন্মান্ধ হাফেজের কর্মসংস্থান: চার বছরের অপেক্ষার অবসান
মো. জহিরুল ইসলাম জন্মান্ধ হলেও পবিত্র কোরআনের একজন হাফেজ। দীর্ঘ চার বছর ধরে একটি চাকরির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বলদিয়া কাদরিয়া মফিজিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা তাকে নিয়োগ দিয়েছে।
শনিবার মাদরাসার সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে মো. জহিরুল ইসলামকে ডেকে এনে চাকরির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার থাকার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, চাকরির সন্ধানে চাঁদপুর জেলার মতলব থানার ষাটনল গ্রাম থেকে তিনি নেছারাবাদে আসেন। নেছারাবাদে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে চাকরির কথা বললেও জন্মান্ধ হওয়ায় কোথাও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিগোচর হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. জহিরুল ইসলাম ঢাকার নবাবগঞ্জের একটি মাদরাসা থেকে শ্রবণশক্তির মাধ্যমে শুনে শুনে হাফেজি সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘ চার বছর ধরে বেকার ছিলেন তিনি। জন্মান্ধ হওয়ার কারণে একাধিক স্থানে চেষ্টা করেও চাকরি পাননি। শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের আশায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় এসে অনেক লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
সংবাদটি নেছারাবাদের 'বলদিয়া' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের নজরে এলে তিনি সংগঠনের সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সভাপতির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেকে এনে চাকরির ব্যবস্থা করে।
জানা গেছে, মো. জহিরুল ইসলামের পরিবারে স্ত্রী, একটি কন্যাসন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। নিজ এলাকায় চাকরির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) এসে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে তার কর্মসংস্থানের স্বপ্ন পূরণ হলো।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হলে মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন, কোনো অন্ধ ব্যক্তি যদি হাফেজি পড়তে আগ্রহী হন, তাহলে এই মাদরাসায় ভর্তি হতে পারবেন। তাদের জন্য আলাদা একটি শাখা খোলার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
Comments