প্রবাসে ঈদের অনুভূতি
আজ শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬ ই; পবিত্র জুম্মার দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।কারণ আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। এই দিনে এমন একটি সময় আছে,যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন( যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না) এবং এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর এই বছর আজকের এই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিনে মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ উৎসবের মধ্য অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর আজ।
তাই এবারের ঈদের আনন্দ অন্যান্য বছরের থেকে একটু আলাদা। যদিও আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ছড়ানোর কারণে প্রত্যেকের মধ্যে একধরণের উৎকণ্ঠা ও অস্হিরতা বিরাজ করছে।
কভিড-১৯ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র জীবানুর সাথে অস্ত্র বিহীন নীরব যুদ্ধে বিশ্ববাসী যেমন আতঙ্কে ছিলো নিজের জন্য,স্বজনদের জন্য এবারও ঠিক তেমনি আচানক আশঙ্কায় বুক ধড়ফড় করে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে।কখন, কি খবর ভেসে আসে ইথারযোগে প্রিয়জনদের খবর পেতে।
গতকাল আমার কাকার সাথে কথা বলে রীতিমত আতকে উঠলাম তার একটু অদূরে পাশের বিল্ডিংয়ে বিকট আওয়াজ।কাকা বললো,ভীতসন্ত্রস্ততার মাঝে সময় কাটছে।এদিকে তার ঢাকার ফ্লাটটি বার বার শিডিউল পরিবর্তন করছে।পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও পরিস্হিতির বিমাতা সুলভ আচরণে সবই ভেস্তে যাচ্ছে।
আমার এক সহকর্মী বাংলা টিভির কুয়েত প্রতিনিধি। আ হ জুবেদ ভাই তিনিও একই পরিস্হিতির শিকার। প্রকট বোমা বিস্ফারণের শব্দে আঁতকে ওঠে। এক বিভীষিকাময় পরিস্হিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
যদিও আমার এখানে এইরকম ভীতিকর পরিস্হিতি নেই কিন্তু মন কেঁদে ওঠে ইরানবাসীর জন্য অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে। নির্ঘুম রাত কাটছে ইরানবাসীর।দূর থেকে এসব দেখে দেখে মনের ভিতর একধরনের কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠেছে। একমাত্র মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনই সঠিক ফয়সালাকারী।তিনিই রক্ষা করবেন। দোয়া করি দ্রুত ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া অসম এই যুদ্ধের যেন অবসান ঘটে এবং বিশ্ববাসীর মাঝে যেন শান্তি ফিরে আসে।
আজ ঈদের দিন! ছোটবেলার সেই দিন গুলোর কথা মনে পড়ে।বইতে পড়তাম "টু ডে ইজ ঈদ ডে"! আজ বহু বছর পর বাস্তবিকতায় পেলাম ইংরেজী ভাষার দেশ স্কটল্যান্ডে।সত্যিই "আজ ঈদের দিন"তবে বাচ্চাদের মন ও মননে।দেশের ছেলেমেয়েদের মধ্যে যেভাবে আনন্দের ঢেউ জাগে এখানের বাচ্চাদের মাঝে তেমনটা দেখা যায় না। তারপরও আনন্দে মেতে ওঠে।
আমার মনে পড়ে ফেলে আসা দিন গুলোর কথা!ঈদের দিনে নতুন জামা পেয়ে কত যে খুশী হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে নাআজ দামী পোষাক পড়লেও সেই আনন্দ ও অনুভূতির লেশমাত্র নেই।তার একটি কারণ ও আছে সেদিন মা,বাবা ছিলো,নতুন পোষাকের সাথে স্নেহ-ভালোবাসা ছিলো। কিন্তু মা,বাবা বলে ডাকার মত কেউ নেই আজ। এই দুটি শব্দ কন্ঠে আজ আর উচ্চারিত হয় না।চিরতরে হারিয়ে গেছে।
আজ ২৯ বছর যাবত দেশের মাটিতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে পারিনি।বন্ধু-বান্ধব,ভাই-বোন,আত্মীয়,স্বজন কারো সাথেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারিনি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বন্ধু-বান্ধবের সাথে,কখনও আত্মীয় স্বজনের সাথে এবং দীর্ঘটা সময় পরিবারের সাথে ঈদ কাটাচ্ছি প্রবাসের মাটিতে।কিন্তুু হারানো দিনগুলো,সেই কাগজের রঙিন টুপি মাথায় দিয়ে নতুন হাফ শার্ট আর হাফ প্যান্ট পড়ে বন্ধুদের সাথে হই-হুলো করার আনন্দ আজ আর নেই।আছে শুধু অতীতের স্মৃতি গুলো মনে করে একটু আনন্দে শিহরিত হওয়ার ক্ষয়িঞ্চু ক্ষণ।আছে ব্যস্ততা,আবেগহীন শহরের পথ পরিক্রমার এক শৃঙ্খল রেখা।
Comments