প্রথম স্ত্রীর মামলায় পুলিশের হাতে শিক্ষক আটক, পলাতক প্রেমিকা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহতোচ্ছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক কায়সারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
একই ঘটনায় কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের সরকার খানের মেয়ে কথিত প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত এনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিবাহিত এবং স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক কায়সারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, এ ঘটনায় কায়সারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী আইনি পদক্ষেপ নেন এবং মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কায়সারুজ্জামানকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। তাঁর নিজ বাড়ি কালাই থানা এলাকায়। পরে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মামলায় সংশ্লিষ্ট প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত এনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকের অভিযোগ, কায়সারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিভাবকদের অভিযোগ,পূর্বের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতো না। তারা আরও অভিযোগ করেন. প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতো না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান চৌধুরী এবং সহকারী শিক্ষক সুহেল মিয়ার কাছে পূর্বের অভিযোগগুলোর বিষয়ে অবগত করা হলেও তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, "আমরা শিক্ষকদের ওপর আস্থা রেখে সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাই। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" মহতোচ্ছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কুলাউড়া অঞ্চলের একটি পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Comments