বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচারি হয়ে উঠলে তাদের অবস্থা আওয়ামী লীগের মতোই হবে। স্বৈরাচারি হলে জনগণই তাদের ক্ষমতা থেকে বের করে দেয়। গণতন্ত্রই সর্বোত্তম ব্যবস্থা।
বুধবার দুপুর ১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের তাতিপাড়া মহল্লায় পৈত্রিক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত থাকবে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের যদি একই মত থাকে, তাহলে তো একই হয়ে গেল। এক এক দলের এক এক মত থাকবে, ভিন্নমত থাকবে। জনগণ বেছে নেবে কোনটি তাদের জন্য উপযোগী। এ কারণেই তো নির্বাচন। নির্বাচন কেন? আমি আমার ম্যানুফ্যাকচার নিয়ে জনগণের কাছে যাব, আমি যে কাজগুলো করতে চাই, আমার বিভিন্ন পলিসি নিয়ে আমি জনগণের কাছে যাব, দিস ইজ মাই পলিসি, আপনারা আমাকে ভোট দিয়েন। অন্যান্য দলগুলো তাদের পলিসি নিয়ে যাবে। যেখানে জনগণ যাদেরকে ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, তারাই পার্লামেন্ট গঠন করবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলছি যে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য যে ন্যূনতম সংস্কারগুলো করা দরকার, সেগুলো করতে হবে। যেমন নির্বাচন ব্যবস্থা-কেন্দ্রিক যে সংস্কার। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা, এটা করতে হবে। দুই নম্বরে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, তিন নম্বরে জুডিশিয়াল রিফর্ম (বিচার বিভাগীয় সংস্কার)। এই তিনটি একেবারে মাস্ট করতে হবে। সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। সেই ছয়টি কমিশনের মধ্যে বেসিক ইম্পর্ট্যান্ট এই তিনটি। এই তিনটি তো আমরা করতে বলেছি। এবং ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, সরকারের প্রত্যেকটা সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে আমরা কিন্তু প্রত্যেকটাই ক্লোজবাই ক্লোজ জবাব দিয়েছি এবং উত্তর দিয়েছি। এবং তাদেরকে (সংস্কার কমিশনকে) অনুরোধ করেছি, এ বিষয়ে আমরা কথা বলতে চাই। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলবে। আমরা যে বিষয়ে জোর দিচ্ছি, যে জিনিসটা বুঝতে অনেকে অক্ষম হচ্ছে। বিএনপি কখনোই এ কথা বলি নাই যে, আগে নির্বাচন, আর তারপরে সংস্কার। এটা যদি কেউ বলে থাকে, তাহলে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা বলছি, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম যে সংস্কারগুলো করা দরকার, সেটা করতে হবে। আপনারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন কেন?
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সংস্কারের দাবি তো আমাদের। বিএনপির দেওয়া ৩১ দফার একটি হলো নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার। ২০১৬ সালে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ দিয়েছেন প্রথম। সেই ভিশন ২০৩০ এ আমরা আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে পরিবর্তনগুলো করা দরকার, সে কথাগুলো আমরা তখনই বলেছি। এই আজকের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা উঠছে এবং সংস্কার কমিশনও বলছে, এটাই করতে হবে। এ কথা তো আমরা তখনই বলেছি। কেয়ারটেকার গভমেন্টের অধীনে ৯ মাসের মধ্যে নির্বাচন, একথা আমরা তখনই বলেছি। তাহলে কী বোঝা যাচ্ছে? আমরা যা বলেছি, সেগুলোই তো আসছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?"
নিজ দলের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "আমাদের দলের যেটা দায়িত্ব, আমরা দল হিসেবে ইতোমধ্যে দলের কিছু কিছু ব্যক্তি, তারা কিছু কাজ করেছিলেন, যেগুলো আমরা প্রশ্রয় দেই না। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনারা খুব ভালো করে জানেন, কোন কোন দল ভেঙে দিয়েছি, কোন কোন সংগঠনকে ভেঙে দিয়েছি, কোন কোন দলের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমরা দল থেকে বহিষ্কারও করেছি। আমাদের যেটা রাজনৈতিক দায়িত্ব, আমার দল অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করছে। কোনো কোনো জায়গায় ব্যর্থই ঘটছে, তার বিরুদ্ধে আমরা রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছি, শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী, বিএনপি নেতা আনসারুল হক, দপ্তর সম্পাদক মামুন ঊর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
Comments