ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবিলায় ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নতি চায় চীন

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবিলায় এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন এ অঞ্চলে আলাদা জোট করতে চায়। আরেক অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপান এবং বড় অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জোট করার ঘোষণা দেয়ার পর ভাবনা চলছে আরেক বড় অর্থনীতি ভারতকে নিয়েও। আমেরিকার শুল্ক নীতিকে ঠেকাতে আঞ্চলিক স্তরে বাণিজ্যিক চুক্তিতে যাওয়ার কথা চিন্তা করছে চীন। কারণ আজ ২ এপ্রিল ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণা করবেন।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ৭৫ বছর উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ কঠোর হবে বলেই বেইজিং জানে। তাই এশীয় অঞ্চলে মিত্র বাড়াতে চাচ্ছে চীন। ভারতও শঙ্কিত। কারণ ভারতীয় পণ্যের উপরেও বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই বাস্তবতায় পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘর্ষের স্মৃতিকে পিছনে ফেলে জিনপিংয়ের এই বার্তা-কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মোদি সরকার। এর আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী ইয়াং-ই ভারতকে পাশে চেয়ে একই বার্তা দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে লেখা চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভারত ও চীনের পরস্পরের সহযোগী হওয়ার বিষয়টি একেবারেই সঠিক। জিনপিং দ্রৌপদীকে লেখা চিঠিতে আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুই দেশের কৌশলগত দিক থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। পারস্পরিক বিশ্বাস, সহাবস্থান গড়ে তুলতে হবে দু'জনকেই। দুই দেশকে বৃহত্তর গণতন্ত্রের কথাও প্রচার করতে হবে।
ভারত-চীন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা, সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি মনে করেন, সারা দুনিয়ায় শান্তি, সমৃদ্ধি ফেরাতে দুই দেশের আরও বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত। জিনপিং চিঠিতে এ-ও জানিয়েছেন যে, ভারত ও চীন, দুই দেশেই প্রাচীনকালে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সেই দুই দেশই এখন দ্রুত উন্নতির পথে হাঁটছে। চীনের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মুর্মুও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির-কে একটু বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে উভয় পক্ষ।
Comments