ঋণ পেলো, ক্রয়াদেশের ভরপুর, তবু পোশাক খাতে ঈদের বেতন বোনাস জটিলতা গেল না

ঈদ সামনে, তাই পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ না খবরেও ভরপুর গণমাধ্যম। একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক লিখেছে, সরকার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তৈরি পোশাকশিল্পের অনেক কারখানা এখনো শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। আবার শ্রম উপদেষ্টার বরাতে খবর বেরিয়েছে, 'টিএনজেড গ্রুপের গাড়ি বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে'।
তবে বাস্তবতা হলো, প্রতিবারের মতো এবারও এই ইস্যুটা জোরালোভাবে এসেছে এবং অনেক কারখানা বেতন বোনাস পরিশোধ করছে না ইদের আগে। পোশাক খাত নিয়ে আলোচনা বেশি হওয়ায় সবার নজর এদিকে, কিন্তু অন্যান্য খাতেও এ পরিস্থিতি বাস্তব। এমনকি অনেক গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়।
যাইহোক পোশাক খাতের দিকেই যদি তাকাই তাহলে দেখছি, বকেয়া মজুরি এবং ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করতে হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার সহ বেশ কয়েকটি শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলেছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার শ্রম ভবন থেকে সচিবালয়ের দিকে মিছিল করা শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েক অনেক শ্রমিক আহত হন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর পোশাক খাতের এই চিত্র পাল্টাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি ঋণ সুবিধা পেয়েও পরিস্থিতি বদলাতে পারলেন না পোশাক খাতের মালিকরা। বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই ঈদের আগে পোশাক রপ্তানিকারকদের মাঝে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এই ঋণ সহায়তা দেয়াই হয়েছে ঈদের বোতন ও বোনাস দেয়ার জন্য।
সরকার, কারখানা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া বেতন, বোনাস এবং মার্চ মাসের কমপক্ষে ১৫ দিনের বেতন ২০ রমজানের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কিছু কারখানা এখনও তাদের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারেনি। যারা বেতন বোনাস দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন ১২ জন পোশাক কারখানার মালিকের উপর মঙ্গলবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। বকেয়া বেতন এবং বোনাস পরিশোধ করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। বাস্তবতা হলো অনেক কারখানার শ্রমিকদেরই শেষ পর্যন্ত অবৈতনিক ছুটিতে যেতে হবে, যা তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এখন কিন্তু ক্রয়াদেশের কোন সমসৌ্যা নেই। অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা ক্রয়াদেশে ভরপুর রয়েছে। এরপরও বেতন-ভাতা নিয়ে যা হচ্ছে, তা দুঃখজনক। ভবিষ্যতে ঈদের আগে তৈরি পোশাকসহ অন্য খাতের শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটা সিস্টেম জোলালোভাবে তৈরি করা এবং মেনে চরার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে।
Comments