প্রযুক্তির অপব্যবহারের খপ্পরে চসিক সচিব; ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের চেষ্টা!
প্রযুক্তির অপব্যবহারের খপ্পরে পড়ে মারাত্মক হয়রানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের শিকার হচ্ছেন বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সচিব আশরাফুল আমিন। তাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৪ সালের দাবি করে প্রচারিত একটি সূত্রবিহীন অডিও ক্লিপকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
চসিক সচিবের অভিযোগ, তার কণ্ঠস্বর নকল করে বা আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ও প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও পেশাগতভাবে ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী দুষ্টচক্র পরিকল্পিতভাবে এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
প্রচারিত অডিওটির ব্যাপারে আশরাফুল আমিন বলেন, অডিওতে যে কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে তা কোনোভাবেই তার নয়। ফলে কাল্পনিক এই অডিওর ওপর ভিত্তি করে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
একই সঙ্গে আগ্রাবাদে নতুন বাড়ি নির্মাণের অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে তিনি জানান, আগ্রাবাদেই তার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং দীর্ঘদিনের বসবাস। চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য কোথাও বা বিদেশে তার, তার স্ত্রী বা সন্তানদের নামে কোনো বাড়ি, জমি বা ফ্ল্যাট নেই। প্রায় ২০ বছর আগে তার বাবার কেনা একটি অ্যাপার্টমেন্টেই বর্তমানে তিনি ভাইদের সঙ্গে সপরিবারে বসবাস করছেন।
নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, চসিক মেয়রের নির্দেশনায় অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানদের মতো তিনিও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি বিধিবিধান ও প্রশাসনিক এখতিয়ারের ভেতরে থেকেই চসিকের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চসিক সচিব আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান মেয়রের নেতৃত্বে চসিকে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা ব্যাহত করার অসৎ উদ্দেশ্যেই একটি মহল ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে এসব বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনে একক আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পেশাদার সাংবাদিকদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে, চসিক সচিবকে ঘিরে এমন অপপ্রচারের ঘটনায় চসিকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মেয়রের অনুসারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। তারা আশরাফুল আমিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট করছেন এবং কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি ও তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
Comments