পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রচলিত মত অনুযায়ী, এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেন এবং একই তারিখে তাঁর ওফাত হয়।
মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে বিবেচিত। তিনি মানুষকে অজ্ঞতা, অন্যায় ও অন্ধকার থেকে সত্য, ন্যায় ও আলোর পথে আহ্বান করেন। তাঁর প্রচার, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আরবের তৎকালীন জাহেলি সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। শৈশবেই মা ও দাদার মৃত্যুর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা। ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি মানুষকে মহান আল্লাহর একত্ববাদ, ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও শান্তির পথে আহ্বান জানান।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, সহমর্মিতা, ইনসাফ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি রয়েছে। দিবসটি ঘিরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম, চরিত্র ও মানবতার প্রতি তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায়, সম্প্রীতি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন মুসল্লিরা।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। বাণীতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ পরিহার করে সাম্য, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলাই ঈদে মিলাদুন্নবীর অন্যতম শিক্ষা।
Comments