কোরআনে বর্ণিত ঐতিহাসিক মসজিদগুলো
মসজিদ মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র। কোরআনে 'মসজিদ' শব্দ ও তার বিভিন্ন রূপ প্রায় ২৮ বার এসেছে—কখনো ইবাদতের স্থান হিসেবে, আবার কখনো সিজদার অঙ্গ অর্থে। আল্লাহ তাআলা কোথাও মসজিদের মর্যাদা ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, আবার কোথাও ভ্রান্ত উদ্দেশ্যে নির্মিত মসজিদের নিন্দা করেছেন।
কোরআনে সরাসরি নাম উল্লেখ করে প্রধানত দুটি মসজিদের কথা এসেছে—মসজিদুল হারাম ও মসজিদুল আকসা। মক্কার মসজিদুল হারাম, যার কেন্দ্রে কাবা, মানবজাতির প্রথম ইবাদতকেন্দ্র; এটি ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) নির্মাণ করেন এবং মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (সা.) এটিকে শিরকমুক্ত করেন। জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা বরকতময় স্থান, ইসরা-মিরাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, বহু নবীর ইবাদতের স্থান এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা।
ইশারা–ইঙ্গিতে আলোচিত মসজিদগুলোর মধ্যে আছে মসজিদে কুবা, যা তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত; রাসুল (সা.) নিজ হাতে এটি নির্মাণ করেন এবং সেখানে নামাজের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত আছে। বিপরীতে, মসজিদে দিরার ছিল মোনাফেকদের তৈরি বিভেদ সৃষ্টির কেন্দ্র—কোরআনে এর কঠোর নিন্দা করা হয়েছে এবং রাসুল (সা.)-এর নির্দেশে এটি ধ্বংস করা হয়। এছাড়া আসহাবে কাহাফ–এর ঘটনার প্রেক্ষিতেও একটি মসজিদ নির্মাণের উল্লেখ আছে, যা তাদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সব মিলিয়ে, কোরআনের আলোচনায় স্পষ্ট—মসজিদের মর্যাদা নির্ভর করে এর উদ্দেশ্য, তাকওয়া ও আল্লাহর ইবাদতের প্রতি নিষ্ঠার ওপর।
Comments