প্রবাসীর ডিভোর্সী স্ত্রীর সাথে পরকিয়া,পদ হারালেন চান্দগাঁও জামায়াত সভাপতি
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা জামায়াতের সভাপতি মো. ইসমাঈলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগের পর দলীয় তদন্তের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে থানা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের ইসমাঈলকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ঢাকা জার্নালের হাতে এসেছে। ভিডিওটির সূত্র ধরে নগর জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই নারীর সঙ্গে ইসমাঈলের সম্পর্কের অভিযোগের সমর্থনে কিছু আলামত পেয়েছে ঢাকা জার্নাল। যা প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের পর ইসমাঈলের বিষয়ে তদন্ত করতে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গেল সোমবার (৫অক্টোবর) কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বুধবার (৭অক্টোবর) তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
চাকরি ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন
জানা যায়, ২০২৩ সালে লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান এলাকার এক নারী ইসমাঈলের সুপারিশে আইএমসিএইচে ডক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি পান। পরে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর পদোন্নতি হয় এবং তিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে টেকনোলজিস্ট সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান।
ওই নারীর সঙ্গে প্রবাসী স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর। বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে বনিবনা না হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, ইসমাঈলের সঙ্গে ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ার পরই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্বে ইসমাঈল
ইসমাঈল জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দলটির নবগঠিত যুব শাখার চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহসভাপতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথের (ওয়ামি) চট্টগ্রামের দায়িত্বেও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে রোহিঙ্গা শিবিরের জন্য বরাদ্দ অর্থের ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল বলে দলসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি।
মেডিকেল কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে উপপরিচালকের দায়িত্বে থাকা ইসমাঈলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ক্যানটিন, কেনাকাটা ও অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের আয়-ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন দলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁদের দাবি, এসব বিষয়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং বিষয়গুলো জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরের বাইরে ছিল।
দায়িত্ব থেকে সরানোর পক্ষে মত দেন নেতারা
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৯অক্টোবর জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন তত্ত্বাবধায়ক চট্টগ্রাম সফর করেন। এ সময় তিনি নগর জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নেতা ইসমাঈলকে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে মত দেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে মো:ইসমাঈলের ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
Comments