সুশাসনের ভিত্তি: প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
পরিবর্তিত বিশ্বে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার নতুন ভূমিকা
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতির চরিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। আজকের দিনে কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতা শুধু তার আর্থিক সক্ষমতা বা অবকাঠামোগত শক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে তার শাসনব্যবস্থা কতটা কার্যকর, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা শক্তিশালী, নীতিমালা কতটা বাস্তবসম্মত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ তার ওপর। এই বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা আর শুধুমাত্র হিসাব যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশও এই পরিবর্তনের বাইরে নয়। গত কয়েক দশকে দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হয়, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে পারে, নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বলতে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, কাঠামো, কার্যপ্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এমন পরিবর্তনকে বোঝায়, যা প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ফলাফলমুখী করে তোলে। অনেক সময় সংস্কারকে শুধুমাত্র নতুন আইন প্রণয়ন, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস বা প্রযুক্তি সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধভাবে দেখা হয়। বাস্তবে সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
এখানেই অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। একটি কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম, নীতিমালা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো মূল্যায়ন করে। তারা শুধু অনিয়ম বা দুর্বলতা চিহ্নিত করে না; বরং কেন সেই দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে সম্পর্কেও সুপারিশ প্রদান করে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা রয়েছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন দুর্বল। কোথাও দায়িত্ব বণ্টনে অস্পষ্টতা রয়েছে, কোথাও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অকার্যকর, আবার কোথাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ। এসব বিষয় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে বাধাগ্রস্ত করে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এসব সমস্যা চিহ্নিত করে এবং ব্যবস্থাপনাকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। ফলে সংস্কার শুধু একটি ধারণা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাস্তব পরিবর্তনের রূপ লাভ করে।
আন্তর্জাতিকভাবে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা হয়। আধুনিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের পথে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে এবং সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করে। ফলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এখন আর শুধুমাত্র অতীত মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎমুখী ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার অবদান
সুশাসন বর্তমানে উন্নয়ন আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা, কার্যকারিতা এবং দায়িত্বশীলতা—এসব উপাদানের সমন্বয়েই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি প্রতিষ্ঠানে সুশাসন যত শক্তিশালী হবে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণ, বিনিয়োগকারী, অংশীজন এবং সেবা গ্রহণকারীদের আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে।
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কারণ এটি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা পর্ষদকে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রদান করে। কোনো কার্যক্রম নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, সম্পদের ব্যবহার যথাযথ হচ্ছে কি না, ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে কি না এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না—এসব বিষয়ে নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা দুর্বল থাকে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধু কী ঘটেছে তা মূল্যায়ন করে না; বরং কেন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা যায়, তা নিয়েও বিশ্লেষণ করে।
বাংলাদেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি সম্পদের ব্যবহারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করতে হবে।
ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা: আধুনিক নিরীক্ষার মূল দর্শন
অতীতে নিরীক্ষা প্রধানত লেনদেনভিত্তিক ছিল। অর্থাৎ নিরীক্ষকরা সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ত্রুটি বা বিচ্যুতি শনাক্ত করতেন। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মূল ধারণা হলো, প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম সমান গুরুত্ব বা ঝুঁকির নয়। কিছু কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে, আবার কিছু কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরীক্ষার সময় ও সম্পদ এমন খাতে ব্যয় করা উচিত, যেখানে সম্ভাব্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশে এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে চেকলিস্টভিত্তিক নিরীক্ষা প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শুধুমাত্র নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, সেই ঝুঁকি কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ এবং সুনামগত ঝুঁকি—এসব বিষয় এখন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা এসব ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে এবং ব্যবস্থাপনাকে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ দেয়।
নীতি বিশ্লেষণ ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার সম্পর্ক
নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্যে প্রণীত নীতিও প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়। এর কারণ হতে পারে দুর্বল বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব, অস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন কিংবা দুর্বল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
এখানেই নীতি বিশ্লেষণের গুরুত্ব। একটি নীতি কতটা কার্যকর, বাস্তবায়নে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজন হলে কী ধরনের সংশোধন প্রয়োজন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই নীতি বিশ্লেষণের মূল উদ্দেশ্য।
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা নীতি বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কারণ নিরীক্ষকরা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, কার্যপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করেন। ফলে তারা নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, সে বিষয়ে মূল্যবান তথ্য প্রদান করতে পারেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে নীতিমালা প্রণয়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সংস্কৃতি এখনও দুর্বল। যদি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে নীতি বাস্তবায়ন মূল্যায়নের একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিরীক্ষার ভবিষ্যৎ
বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার কার্যপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে নিরীক্ষকরা সীমিত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। বর্তমানে ডেটা অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ তথ্য অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত বিশ্লেষণ প্রযুক্তি নিরীক্ষকদের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা, ঝুঁকির ধরণ বিশ্লেষণ করা, প্রবণতা নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির পূর্বাভাস দেওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং খাত, টেলিযোগাযোগ, উন্নয়ন সংস্থা এবং কিছু বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে ডেটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রযুক্তি কখনোই নিরীক্ষকের বিকল্প নয়; বরং এটি নিরীক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা, পেশাগত বিচারবোধ এবং নৈতিক অবস্থান এখনও নিরীক্ষার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পেশা ধীরে ধীরে গুরুত্ব অর্জন করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, কর্মসম্পাদন নিরীক্ষা এবং পরামর্শমূলক নিরীক্ষার ধারণাও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তবে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার স্বাধীনতা পর্যাপ্ত নয়। কোথাও পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই, কোথাও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত, আবার কোথাও নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
এই বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে কেবল একটি বাধ্যতামূলক কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিরীক্ষা পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে একটি উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
একটি দেশের উন্নয়ন কেবল বড় অবকাঠামো, উচ্চ প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর শাসনব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা। আর এই তিনটি ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে কার্যকর করতে, সুশাসনকে শক্তিশালী করতে এবং নীতিমালার বাস্তবায়নকে ফলপ্রসূ করতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার বিকল্প নেই। আধুনিক নিরীক্ষা শুধু অনিয়ম শনাক্ত করে না; এটি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে, ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে এবং মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন যাত্রায় তাই অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে একটি সহায়ক প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ শক্তিশালী নিরীক্ষা মানে শুধু শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত সেবা, অধিক জবাবদিহিতা এবং টেকসই উন্নয়নের একটি দৃঢ় ভিত্তি।
লেখক: ম্যানেজার, ইন্টারনাল অডিট এন্ড কম্প্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
Comments