প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের শেল্টারে মোটরচালিত অটোরিক্সার নৈরাজ্য ও জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দেবে কে?
টেসলা নামক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা রাস্তা ঘাটে বিশৃঙ্খলা-দুর্ঘটনা ও যানজট সৃষ্টির অন্যতম বাহনটি বর্তমানে হাটহাজারী পৌরবাসীর অল্প দূরত্বে বা পৌরসভার আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলেও, ব্যাটারিচালিত এই অটোরিকশাগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় এক 'গলার কাঁটা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের যাতায়াতে এই অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা, ভাড়া নিয়ে প্রকাশ্য ডাকাতিসহ চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। অথচ এই নৈরাজ্য দেখার যেন কেউ নেই!
ভাড়ার নামে চলে প্রকাশ্য 'ডাকাতি' ও যাত্রী জিম্মি
পৌর এলাকায় ভাড়ার কোনো নিয়ম-নীতি বা তালিকা/চার্ট নেই। চালকরা যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যখন যত ইচ্ছা ভাড়া দাবি করছে।
যেখানে হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরের বাস ভাড়া মাত্র ৪৫ টাকা, সেখানে উপজেলার ১১ মাইল থেকে পৌর বাজার পর্যন্ত সামান্য দূরত্বের জন্য জোরপূর্বক ৫০ টাকা ও ততোধিক বাড়া আদায় করা হচ্ছে!
একটু ভেতরে অলিগলিতে গেলেই যাত্রীদের জিম্মি করে চাওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা!
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, সমাজের ভদ্র ও মানী মানুষেরা মাত্র অল্প টাকার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে তর্কাতর্কি করতে পারেন না, সাধারণ মানুষের এই চরম ভদ্রতা ও নিরুপায় অবস্থাকেই পুঁজি করছেন এই চালকরা। প্রতিবাদ করলেই জুটছে বহিরাগত ও অচেনা চালকদের চরম দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা।
সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কাহীন চলাচল
এই অটোরিকশাগুলোর সিংহভাগেরই নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স বা নম্বর প্লেট। কোন্ রিকশা কোন্ সীমানা পর্যন্ত চলবে, তার কোনো মাইলেজ বা রুট নির্ধারণ করা নেই। বাইরে থেকে আসা একশ্রেণির উগ্র চালক পুরো হাটহাজারী পৌরএলাকাকে নিজেদের অভয়ারণ্য বানিয়ে ফেলেছে। তাদের নেই কোনো পরিচয়পত্র বা সুনির্দিষ্ট ডাটাবেইজ যার কারণে তারা যেকোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটিয়ে এরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে, কারণ এদের চিহ্নিত করার কোনো উপায় নেই।
প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের কাছে আকুল আবেদন
হাটহাজারীর শান্তিকামী মানুষকে এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দেওয়ার কি কেউ নেই?
এই চরম বিশৃঙ্খলার মুখে উপজেলা পরিষদ এবং পৌর কর্তৃপক্ষ কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে? জনস্বার্থে যেখানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকার কথা, সেখানে এই নীরবতা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অসহায় করে তুলছে।
আমরা হাটহাজারী পৌরবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), পৌর প্রশাসক এবং হাটহাজারী থানা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি:
১. নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ ও চার্ট: প্রতিটি মোড়ে এবং অটোরিকশায় দৃশ্যমান ভাড়ার তালিকা (Fare Chart) টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হোক।
২. নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট: পৌর এলাকায় চলাচলকারী সকল অটোরিকশার ডাটাবেজ তৈরি করে সুনির্দিষ্ট নম্বর প্লেট প্রদান করা হোক।
৩. রুট ও সীমানা নির্ধারণ: কোন্ এলাকার রিকশা কতটুকু যাবে তা সুনির্দিষ্ট করা হোক, যাতে বহিরাগতদের উপদ্রব কমে।
৪. ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা: অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী এবং যাত্রীদের হেনস্থাকারী চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৫. যাত্রীসেবার মান নিশ্চিতকরণে প্রতিটি রিকশাচালকের আচরণ ও কার্যক্রমের আপডেট যথাযথ কর্তৃপক্ষকে যেন দ্রুত অবহিত করা যায়, সে মর্মে একটি সহজ ও সার্বক্ষণিক হটলাইন বা হেল্পলাইন (যেমন: ওয়াসআপ নাম্বার বা ৩ - ৪ ডিজিটের শর্টকোড)চালু করা বা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে এর মাধ্যমে যাত্রীরা যেকোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ইতিবাচক মতামত তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন
হাটহাজারীর মানুষ কর দেয়, শান্তিতে বাঁচতে চায়। প্রতিদিন রাস্তায় নেমে ভাড়ার নামে এই মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন থেকে আমরা দ্রুত মুক্তি চাই।
Comments