আফ্রিকার বাজার: রাষ্ট্রের এক অবহেলিত সম্ভাবনা
বহু বছর ধরে আমাদের দেশের নীতিনির্ধারক আর বাণিজ্য সারথিদের একটা কাজ আমরা দেখে আসছি, যেটাকে বলা যায় ইউরো-আমেরিকান মায়োপিয়া বা পশ্চিমা অন্ধত্ব। এই ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে এসেও যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ছটফট করছি, তখনও আমাদের চোখ আটকে আছে ওয়াশিংটন আর ব্রাসেলসের দরজায়। অথচ একটু চোখ মেললেই দেখা যেত, পৃথিবীর মানচিত্রের ঠিক মাঝখানে এক বিশাল অর্থনৈতিক আগ্নেয়গিরি জেগে উঠছে, যার নাম আফ্রিকা। একশোচল্লিশ কোটিরও বেশি মানুষের এই মহাদেশটি এখন আর কোনো অন্ধকারাচ্ছন্ন ভূখণ্ড নয় বরং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৈচিত্র্যময় এক বাজার। আমরা অবহেলা করে, আলসেমি করে এই বিশাল সম্ভাবনাকে স্রেফ হিমাগারে পাঠিয়ে রেখেছি, আর অন্য দিকে চীন, ভারত এমনকি ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো সেখানে নিজেদের বাণিজ্যের শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। আমাদের রপ্তানি খাতের এই যে একক বাজার-নির্ভরতা, সেটা যে কত বড় আত্মঘাতী জুয়া, তা এখন টের পাওয়া যাচ্ছে বৈশ্বিক মন্দা আর ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই কঠিন সময়ে। অথচ আফ্রিকাকে আমরা যদি স্রেফ একটা নতুন রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে না দেখে এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভাবতাম, তাহলে আজ আমাদের অর্থনীতির গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।
বাস্তবতা হলো, আফ্রিকা মহাদেশকে নিয়ে আমাদের আমলাতন্ত্রের ধারণা এখনো সেই উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক প্রচারণায় আটকে আছে। তারা ভাবেন, সেখানে কেবল যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ আর অস্থিতিশীলতা। কিন্তু আফ্রিকার ভেতরের যে রূপান্তর, বিশেষ করে আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া চালু হওয়ার পর পুরো মহাদেশ যেভাবে একটি একক বাজারে পরিণত হচ্ছে, সেই খবর আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়জন রাখেন তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এই বিশাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল পুরো মহাদেশের ভেতরে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের যে রাস্তা খুলে দিয়েছে, তা ব্যবহার করে আফ্রিকার মাটিতে পা রাখার এটাই উপযুক্ত সময় ছিল। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, বা ঘানার মতো দেশগুলোর মধ্যবিত্ত শ্রেণি যেভাবে বাড়ছে, তাতে তাদের ভোগ্যপণ্যের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। আর আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প শুধু আমেরিকার ওয়ালমার্ট আর ইউরোপের এইচঅ্যান্ডএম-এর কাছে সস্তায় শার্ট-প্যান্ট বেচেই নিজেদের ধন্য মনে করছে। অথচ আফ্রিকার বাজারে যে মাঝারি ও সাশ্রয়ী মূল্যের পোশাকের বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে, সেই বাজারে আমাদের অংশীদারিত্ব এক শতাংশের ভগ্নাংশ মাত্র। এই অবহেলা কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি একটি ভূরাজনৈতিক অপরাধের শামিল।
এখানেই শেষ নয়, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে আমাদের প্রতিরক্ষা কূটনীতি আর অর্থনৈতিক কূটনীতির মধ্যকার এক বিশাল ও লজ্জাজনক খাদের মধ্যে। গত তিন দশক ধরে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে আমাদের হাজার হাজার সেনাসদস্য আফ্রিকার মাটিতে রক্ত ও ঘাম ঝরিয়েছেন। কঙ্গো, মালি, দক্ষিণ সুদান বা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সাধারণ মানুষের মনে বাংলাদেশের জন্য যে গভীর ভালোবাসা আর বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কোনো রাষ্ট্র শত কোটি ডলার খরচ করেও কিনতে পারত না। এই যে তৈরি হওয়া অসামান্য সফট পাওয়ার, এটাকে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো বাণিজ্যে রূপান্তর করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের বীর জওয়ানরা যেখানে আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনছেন, ঠিক তার পেছনে পেছনে আমাদের ব্যবসায়ীরা কেন ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নিয়ে পৌঁছাতে পারলেন না, সেই জবাবদিহি আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। চীন কিন্তু ঠিক এই কাজটাই করেছে, তারা রাস্তা বানিয়েছে, বন্দর বানিয়েছে এবং তাদের পণ্য দিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলেছে, অথচ আমাদের তৈরি করা মাঠ আমরাই অন্যকে ছেড়ে দিয়ে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছি।
ওষুধ শিল্পের কথাই ধরা যাক, যা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান এক তুরুপের তাস হতে পারত। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে ওষুধের বাজারের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর, এবং সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস খাত এখন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদন করছে এবং আমরা বিশ্বের বহু দেশে তা পাঠাচ্ছি। কিন্তু আফ্রিকার নাইজেরিয়া বা কেনিয়ার মতো বড় বাজারে আমাদের ওষুধ কেন জাঁকিয়ে বসতে পারল না, তার কারণ খুঁজলে দেখা যাবে আমাদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা আর সরকারি স্তরের উদাসীনতা। সেখানে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করছে, অথচ গুণগত মানে আমাদের ওষুধ কোনো অংশে কম নয়। আফ্রিকান ইউনিয়ন এখন তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন এবং তারা চায় স্থানীয়ভাবে বা আঞ্চলিকভাবে ওষুধ তৈরি হোক। বাংলাদেশ যদি আফ্রিকার কয়েকটি কৌশলগত দেশে যৌথ উদ্যোগে ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা স্থাপন করতে পারত, তবে পুরো মহাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যেত। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতা এতটাই কম যে, তারা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোতেই ব্যস্ত, আসল বাণিজ্যের রূপরেখা তৈরির কোনো ফুসরত তাদের নেই।
কৃষি খাতের দিকে তাকালে এই অবহেলার চিত্র আরও করুণ ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুদান, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা কিংবা গাম্বিয়ার মতো দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ হেক্টর উর্বর জমি পতিত পড়ে আছে, যেখানে জনসংখ্যার তুলনায় চাষাবাদের মানুষ বা প্রযুক্তি নেই। অন্য দিকে আমাদের বাংলাদেশ কৃষি প্রযুক্তিতে এবং নিবিড় চাষাবাদে বিশ্বের বুকে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বছরের পর বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ নিয়ে কাগজে-কলমে অনেক সেমিনার হয়েছে, ফাইল চালাচালি হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমাদের বেসরকারি খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত ঝুঁকিতে আফ্রিকায় গিয়ে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক বা কূটনৈতিক সুরক্ষা তারা পাননি। অথচ আমরা যদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আফ্রিকার এই বিশাল উর্বর জমিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নিয়ে আমাদের কৃষকদের সেখানে পাঠাতে পারতাম, তবে তা কেবল আমাদের নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষাই নিশ্চিত করত না, বরং উৎপাদিত ফসল আফ্রিকার স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে এক বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি হতো।
তাহলে গলদটা আসলে কোথায়, কেন আমরা আফ্রিকার এই সোনার খনিটা চোখে দেখেও হাত বাড়াতে পারছি না? আসল সমস্যা হলো ব্যাংকিং চ্যানেল এবং সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অভাব। আজ পর্যন্ত আফ্রিকার কোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ব্যাংকিং চ্যানেল গড়ে ওঠেনি। একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী যদি কেনিয়া বা ঘানায় পণ্য রপ্তানি করতে চান, তবে তাকে এলসি খুলতে হয় ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো তৃতীয় ব্যাংকের মাধ্যমে। এর ফলে লেনদেনের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি সময় নষ্ট হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তার ওপর রয়েছে সরাসরি জাহাজ চলাচলের অভাব। আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ কলম্বো বা সিঙ্গাপুর হয়ে ঘুরে ঘুরে যখন আফ্রিকার বন্দরে পৌঁছায়, ততদিনে ভিয়েতনাম বা ভারতের পণ্য বাজারে জায়গা করে নেয়। এই যে লজিস্টিকসের বাধা, এগুলো দূর করার জন্য যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা রাষ্ট্রীয় জোরাজুরি দরকার, তা আমাদের সরকারের এজেন্ডায় কখনোই অগ্রাধিকার পায়নি। আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেন দুটি আলাদা গ্রহের বাসিন্দা, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।
কূটনৈতিক আলসেমিও এই ব্যর্থতার আরেকটা বড় কারণ। আফ্রিকার মতো এত বড় একটি মহাদেশে আমাদের কয়টি দূতাবাস আছে, তা শুনলে হাসির পাত্র হতে হয়। আর যে দু-চারটি আছে, সেগুলোর বাণিজ্যিক উইংগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। সেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ যেন প্রটোকল ডিউটি দেওয়া, বাজারের খোঁজখবর রাখা বা নতুন বাণিজ্যের রাস্তা খোঁজা তাদের কাজের মধ্যে পড়ে না। অথচ সেখানে ভারতের বা চীনের মিশনগুলো দিনরাত কাজ করছে তাদের দেশের বেসরকারি খাতের জন্য লবিং করতে। আমরা এখনো আফ্রিকা বলতে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকাকে বুঝি, কারণ সেখানে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোন কষ্ট করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। কিন্তু পশ্চিম আফ্রিকা বা পূর্ব আফ্রিকার যে উদীয়মান অর্থনৈতিক বাঘগুলো গর্জন করছে, তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরির কোনো বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ আমাদের নেই। এই অন্ধত্ব যদি আমরা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারি, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল স্রোত থেকে আমরা ছিটকে পড়ব।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, চীন এবং ভারতের মতো পরাশক্তিগুলো যেখানে আফ্রিকায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে বসে আছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি দেশ কীভাবে টিকবে? এই ভাবনাই হচ্ছে পরাজয়বাদী মানসিকতার লক্ষণ। আমাদের চীনের মতো মেগা অবকাঠামো বানানোর দরকার নেই, আর ভারতের মতো বিশাল লাইন অব ক্রেডিট দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। আমাদের শক্তি হলো আমাদের সাশ্রয়ী ও গুণগত মানের পণ্য, আমাদের নিবিড় কৃষি অভিজ্ঞতা এবং আমাদের তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তাদের অদম্য সাহস। চীন যে রাস্তা আর বন্দর আফ্রিকায় বানিয়ে রেখেছে, আমরা তো সেই অবকাঠামো ব্যবহার করেই আমাদের পণ্য সেখানে পৌঁছে দিতে পারি। ভূরাজনীতির ভাষায় একে বলে রাইডিং দ্য ওয়েভ বা অন্যের তৈরি তরঙ্গে সওয়ার হওয়া। কিন্তু সেই তরঙ্গে সওয়ার হওয়ার জন্য যে চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়া আর সাহসী পলিসি দরকার, তা আমাদের আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার ফাইলে বন্দি হয়ে আছে।
সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের দেশের পুঁজি পাচার সংক্রান্ত আইনকানুন ও রক্ষণশীল মানসিকতা। আফ্রিকায় ব্যবসা বাড়াতে হলে কেবল পণ্য রপ্তানি করলেই হবে না, সেখানে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ করার অনুমতি দিতে হবে, সেখানে ওয়্যারহাউজ বা গুদাম বানাতে হবে, স্থানীয়দের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে ব্যবসা সাজাতে হবে। কিন্তু আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘরের টাকা বাইরে যাওয়ার নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে, অথচ বৈধ উপায়ে বিদেশে বিনিয়োগের যে সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত, তা না করায় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার থামানো যাচ্ছে না, আবার বৈধ ব্যবসাও হচ্ছে না। ভিয়েতনাম তাদের কোম্পানিগুলোকে আফ্রিকায় গিয়ে টেলিকম এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগ করার অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, এবং আজ তারা তার এর সুফল ভোগ করছে। আর আমরা আমাদের সফল উদ্যোক্তাদের হাত-পা বেঁধে বলছি, তোমরা অলিম্পিকে গিয়ে সোনা জিতে আনো, এটা তো স্রেফ তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা যে অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে আছি, সেখানে আফ্রিকার বাজার আমাদের জন্য কোনো বিলাসিতা বা বিকল্প পছন্দ নয়, এটি আমাদের টিকে থাকার একমাত্র পথ। ইউরোপ আর আমেরিকার বাজারে আমাদের যে একচেটিয়া সুবিধা ছিল, তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সংকুচিত হয়ে আসবে, এটা ধ্রুব সত্য। তখন যদি আমাদের হাতে আফ্রিকার মতো কোনো বিশাল বিকল্প বাজার না থাকে, তবে দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান আর কলকারখানাগুলো এক মহাসংকটের মুখে পড়বে। সময় কিন্তু আমাদের জন্য বসে থাকবে না, আফ্রিকার দেশগুলো নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলো সেখানে নিজেদের বাজার পাকা করে ফেলছে। আমাদের নীতিনির্ধারকদের এই গভীর ঘুম ভাঙাতে হবে, ভাঙতে হবে ঔপনিবেশিক আমলের মানসিক জড়তা। আফ্রিকার মহাদেশীয় বাজার আমাদের জন্য এক অবহেলিত সম্ভাবনা হয়েই থাকবে নাকি আমরা সেটাকে এক নতুন দিগন্তে রূপান্তর করব, তা নির্ভর করছে আমাদের সাহসিকতা আর দূরদর্শিতার ওপর; আর না হলে ইতিহাসের পাতায় আমাদের এই প্রজন্ম স্রেফ এক সুযোগসন্ধানী অলস জাতি হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
লেখক : ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক
Comments