পূজোর খাওয়াদাওয়ার পর বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য? পেট ভালো রাখবেন যেভাবে
পূজো মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। লুচি, বিরিয়ানি, মাংস, মাছ, মিষ্টি সব মিলিয়ে কয়েক দিন চলে নানা পদের আয়োজন। এর সঙ্গে অনিয়মিত সময়ে খাওয়া, কম ঘুম এবং কারও কারও ক্ষেত্রে মদ্যপানের অভ্যাসও যুক্ত হয়। কিন্তু পূজো শেষ হওয়ার পর অনেকেই ভোগেন বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায়।
এমন পরিস্থিতিতে আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা জরুরি। কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে হজমের সমস্যা কমাতে এবং পেটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য পাওয়া যায়।
১. একবারে বেশি খাবেন না
পূজোর দিনগুলোতে খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। কখনো দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, আবার কখনো একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলার অভ্যাস তৈরি হয়। এতে পেটে অস্বস্তি ও বদহজম হতে পারে।
তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। একবারে বেশি না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাবার খান। তাড়াহুড়ো না করে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তুলুন।
২. আদা ও মৌরি খেতে পারেন পরিমিত পরিমাণে
তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অনেকের পেট ভার লাগে বা গ্যাসের সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রে আদা দিয়ে হালকা চা পান করলে কারও কারও উপকার হতে পারে। খাবারের পর অল্প মৌরি চিবিয়ে খাওয়াও প্রচলিত অভ্যাস।
তবে এসব উপাদান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না। গ্যাস বা অম্বল কমাতে অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাভুজি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উপাদান খাওয়ার পর অস্বস্তি বাড়লে তা এড়িয়ে চলুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরে পানির ঘাটতি। তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বিশেষ করে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ালে পানিও যথেষ্ট খাওয়া জরুরি।
পানি পানের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও গোটা শস্য খাওয়ার অভ্যাস করুন। শরীর সুস্থ রাখতে আলাদা করে দামি ডিটক্স পানীয় খাওয়ার প্রয়োজন নেই। শরীর স্বাভাবিকভাবেই বর্জ্য পদার্থ অপসারণের কাজ করে।
৪. খাবারের তালিকায় রাখুন আঁশযুক্ত খাবার ও দই
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো উপকারী। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁপে, পেয়ারা, কমলা, শাকসবজি, ডাল, ওটস ও লাল আটার মতো খাবার রাখতে পারেন। তবে হঠাৎ করে অনেক বেশি আঁশ খেলে পেট ফাঁপতে পারে। তাই ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।
দইয়ে থাকা উপকারী জীবাণু অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের দইয়ে একই রকম উপকারী জীবাণু থাকে না। চিনি মেশানো দই ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়াই ভালো।
৫. খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন
হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে নিয়মিত হাঁটাচলা উপকারী। প্রতিবার খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা গতিতে হাঁটতে পারেন। এতে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমবে।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে। রাতে খাবার খাওয়ার পর ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি রাখার চেষ্টা করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজম দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, পায়খানায় রক্ত, পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে মল বা গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
পূজোর পর পেট ভালো রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো নিয়মিত সময়ে পরিমিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং শরীরচর্চার অভ্যাস বজায় রাখা। কয়েক দিনের অনিয়ম কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরলেই হজমের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সহজ হবে।
Comments